সমাজের এক অদ্ভুত বাস্তবতার মুখোমুখি আমরা। ভালো মানুষগুলো অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকে অন্ধকারের কোণে, আর অমানুষেরা আলোর দরজায় পায় লালগালিচার অভ্যর্থনা। সত্য কথা বলতে গেলেই কণ্ঠে পড়ে তালা। চারদিকে কষ্টের মেলা, আর মানুষের ভিড়ের মাঝেই মানুষ যেন ধীরে ধীরে নিজেকেই হারিয়ে ফেলছে।
কেউ ভেসে যাচ্ছে স্রোতের টানে, আবার কেউ প্রতিকূল স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে নিজের অস্তিত্বটুকু টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। এই সমাজে তুমি যদি ভালোভাবে বাঁচতে চাও, সেটাই যেন এক ধরনের অপরাধ। তুমি যদি বিচার চাইতে যাও, তবে বোকা প্রমাণিত হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে শত্রু বাড়ে; আর চুপ করে থাকলে সমাজের চোখে তুমি হয়ে ওঠো ‘ভালো মানুষ’।
কিন্তু বাস্তবতা হলো—স্রোতের অনুকূলে তো কচুরিপানাও ভাসে। প্রতিটি ভাসমান বস্তু নাবিক নয়, আর প্রতিটি ভিড়ও সত্যের অনুসারী নয়।
আজকের এই সামাজিক বাস্তবতায় যেন এক অদ্ভুত উৎসব চলছে—জয় হোক মিথ্যাবাদীদের, জয় হোক দুর্নীতিবাজদের, জয় হোক মুখোশধারীদের। জয় হোক অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া ক্ষমতাবানদের। জয় হোক চোরের বড় গলার। জয় হোক সেইসব ভদ্রবেশী শয়তানদের, যারা মুখে নীতির কথা বলে, অথচ আড়ালে নীতিকেই বিক্রি করে দেয়।
আর সত্যবাদী মানুষটি? সে দাঁড়িয়ে থাকে একা। তার পাশে হাততালি দেওয়ার লোক কম থাকে, সমর্থনের কণ্ঠও হয়তো ক্ষীণ থাকে। কিন্তু নিজের বিবেকের কাছে সে পরাজিত নয়। কারণ স্রোতের সঙ্গে ভেসে যাওয়া খুব সহজ। কচুরিপানারও সেই ক্ষমতা আছে। কঠিন হলো স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকা। কঠিন হলো ঝড়ের চোখে চোখ রেখে বলা—“না, অন্যায়কে অন্যায়ই বলব।”
এই সাহস সবার থাকে না। সমাজে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো মানুষ হয়তো সবসময় সংখ্যায় বেশি হবে না। বরং অনেক সময় তাকে একাই পথ চলতে হয়। তবু সেই একাকিত্ব পরাজয়ের নয়; বরং নিজের বিবেকের কাছে মাথা উঁচু করে থাকার প্রতীক। কারণ ভিড়ের সঙ্গে চলা সহজ, স্রোতের সঙ্গে ভেসে যাওয়াও সহজ। কিন্তু প্রতিকূল স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে নিজের অস্তিত্ব, সত্য ও বিবেককে রক্ষা করা—সেটিই মানুষের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। তবে মনে রাখবেন "সত্যের পথে দাঁড়ানোর জন্য হাততালির প্রয়োজন হয় না; প্রয়োজন হয় শুধু নিজের বিবেকের কাছে সৎ থাকার সাহস"।
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সমাজের এক অদ্ভুত বাস্তবতার মুখোমুখি আমরা। ভালো মানুষগুলো অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকে অন্ধকারের কোণে, আর অমানুষেরা আলোর দরজায় পায় লালগালিচার অভ্যর্থনা। সত্য কথা বলতে গেলেই কণ্ঠে পড়ে তালা। চারদিকে কষ্টের মেলা, আর মানুষের ভিড়ের মাঝেই মানুষ যেন ধীরে ধীরে নিজেকেই হারিয়ে ফেলছে।
কেউ ভেসে যাচ্ছে স্রোতের টানে, আবার কেউ প্রতিকূল স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে নিজের অস্তিত্বটুকু টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। এই সমাজে তুমি যদি ভালোভাবে বাঁচতে চাও, সেটাই যেন এক ধরনের অপরাধ। তুমি যদি বিচার চাইতে যাও, তবে বোকা প্রমাণিত হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে শত্রু বাড়ে; আর চুপ করে থাকলে সমাজের চোখে তুমি হয়ে ওঠো ‘ভালো মানুষ’।
কিন্তু বাস্তবতা হলো—স্রোতের অনুকূলে তো কচুরিপানাও ভাসে। প্রতিটি ভাসমান বস্তু নাবিক নয়, আর প্রতিটি ভিড়ও সত্যের অনুসারী নয়।
আজকের এই সামাজিক বাস্তবতায় যেন এক অদ্ভুত উৎসব চলছে—জয় হোক মিথ্যাবাদীদের, জয় হোক দুর্নীতিবাজদের, জয় হোক মুখোশধারীদের। জয় হোক অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া ক্ষমতাবানদের। জয় হোক চোরের বড় গলার। জয় হোক সেইসব ভদ্রবেশী শয়তানদের, যারা মুখে নীতির কথা বলে, অথচ আড়ালে নীতিকেই বিক্রি করে দেয়।
আর সত্যবাদী মানুষটি? সে দাঁড়িয়ে থাকে একা। তার পাশে হাততালি দেওয়ার লোক কম থাকে, সমর্থনের কণ্ঠও হয়তো ক্ষীণ থাকে। কিন্তু নিজের বিবেকের কাছে সে পরাজিত নয়। কারণ স্রোতের সঙ্গে ভেসে যাওয়া খুব সহজ। কচুরিপানারও সেই ক্ষমতা আছে। কঠিন হলো স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকা। কঠিন হলো ঝড়ের চোখে চোখ রেখে বলা—“না, অন্যায়কে অন্যায়ই বলব।”
এই সাহস সবার থাকে না। সমাজে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো মানুষ হয়তো সবসময় সংখ্যায় বেশি হবে না। বরং অনেক সময় তাকে একাই পথ চলতে হয়। তবু সেই একাকিত্ব পরাজয়ের নয়; বরং নিজের বিবেকের কাছে মাথা উঁচু করে থাকার প্রতীক। কারণ ভিড়ের সঙ্গে চলা সহজ, স্রোতের সঙ্গে ভেসে যাওয়াও সহজ। কিন্তু প্রতিকূল স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে নিজের অস্তিত্ব, সত্য ও বিবেককে রক্ষা করা—সেটিই মানুষের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। তবে মনে রাখবেন "সত্যের পথে দাঁড়ানোর জন্য হাততালির প্রয়োজন হয় না; প্রয়োজন হয় শুধু নিজের বিবেকের কাছে সৎ থাকার সাহস"।
মতামত