রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
উত্তরের চোখ

‘বাইরে থেকে তারকা জীবন যতটা ঝলমলে, ভেতরে ততটা নয়’: নুসরাত ফারিয়া

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের শোবিজ অঙ্গনে আলোচিত একটি নাম নুসরাত ফারিয়া। ক্যারিয়ারের শুরুটা হয়েছিল উপস্থাপনা দিয়ে। সময়ের সঙ্গে সেই পরিচয় পেরিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন দুই বাংলার বড়পর্দার পরিচিত মুখ। তবে তাঁর এই পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। সাফল্যের পাশাপাশি এসেছে নানা চড়াই-উতরাই, প্রশংসা, সমালোচনা এবং নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার কঠিন লড়াই। অভিনয়ের পাশাপাশি গায়িকা ও মডেল হিসেবেও নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন তিনি। বর্তমানে অভিনয়, গান ও নতুন কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন এই অভিনেত্রী। তাঁর বর্তমান ব্যস্ততা, শোবিজে পথচলা, সমালোচনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন আলাউদ্দীন মাজিদ।কেমন আছেন?ভালো আছি। কাজের মধ্যে থাকতে পারাটা আমার জন্য সবসময়ই আনন্দের। জীবনে কঠিন সময় এসেছে, তবে আমি বিশ্বাস করি, কঠিন সময় কখনো চিরস্থায়ী হয় না। তাই এখনো স্বপ্ন দেখি এবং সামনে এগিয়ে যেতে চাই। সাম্প্রতিক কাজের ব্যস্ততা কেমন?সম্প্রতি ওয়েব ফিল্ম ‘লাপাত্তা’র কাজ শেষ করেছি। এটি নির্মাণ করেছেন মেহেদী হাসান হৃদয়। এ ছাড়া মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে আমার অভিনীত টলিউড সিনেমা ‘রকস্টার’। ছবিটি পরিচালনা করেছেন আয়ুষ্মান প্রত্যুষ। এতে আমার সঙ্গে অভিনয় করেছেন যশ দাশগুপ্ত। ‘ঠিকানা ৭১’ও শিগগিরই মুক্তি পাবে। অনম বিশ্বাস পরিচালিত এই সিনেমায় আমার সহশিল্পী আরিফিন শুভ।শোবিজে আপনার পথচলার শুরুটা কীভাবে? ২০১২ সালে আরটিভির ‘ঠিক বলছেন তো’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে টেলিভিশন পর্দায় আমার অভিষেক। এর আগে এনটিভির ‘থার্টিফার্স্ট ধামাকা কক্সবাজার’ অনুষ্ঠানেও কাজ করেছি। ২০১৩ সালে বলিউডের গায়িকা সুনিধি চৌহানের কনসার্ট উপস্থাপনার সুযোগ পাই। সেটি আমার জনপ্রিয়তাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।তবে শুধু সঞ্চালনায় থেমে থাকতে চাইনি। বড় স্বপ্ন নিয়ে ক্যামেরার সামনে অভিনেত্রী হিসেবেও নিজেকে তুলে ধরার চেষ্টা করি। ২০১৫ সালে জাজ মাল্টিমিডিয়া ও কলকাতার এস কে মুভিজের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘আশিকি’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় আমার। এরপর একের পর এক সিনেমায় কাজ করার সুযোগ এসেছে।অভিনয়ের পাশাপাশি গায়িকা ও মডেল হিসেবেও কাজ করেছি। ‘পটাকা’ গান দিয়ে গায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করি। পাশাপাশি ‘ডোর’ ফ্যাশন হাউসের ব্র্যান্ড মডেলসহ বিভিন্ন বিজ্ঞাপনচিত্রেও কাজ করেছি।আগামী দিনে অভিনয়ে কী ধরনের নতুনত্ব আনতে চান?এমন চরিত্রে কাজ করতে চাই, যেখানে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার সুযোগ থাকবে। শুধু নায়িকা হিসেবে পর্দায় উপস্থিত থাকাটা আমার কাছে যথেষ্ট নয়। চরিত্রের ভেতরের গল্পটি দর্শকের কাছে বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরতে চাই। প্রতিটি কাজের মধ্য দিয়ে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা থাকবে।ওটিটিতে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?ওটিটিতে কাজের ধরন কিছুটা আলাদা। সম্প্রতি ‘লাপাত্তা’তে কাজ করেছি। সাসপেন্স, থ্রিল ও আবেগের সমন্বয়ে তৈরি গল্পটির কেন্দ্রীয় নারী চরিত্রে অভিনয় করেছি আমি। ওটিটিতে চরিত্রকে আরও গভীরভাবে উপস্থাপনের সুযোগ থাকে। চরিত্র নিয়ে একটু বেশি গভীরে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়।এখন দর্শকরাও গল্প ও অভিনয়—দুটিই খুব মনোযোগ দিয়ে বিচার করেন। ফলে কাজের ক্ষেত্রে দায়িত্বও অনেক বেশি। ‘লাপাত্তা’ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহের কারণ কী বলে মনে করেন?গল্পটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে। এই কাজের মধ্য দিয়ে নিজেকেও নতুনভাবে আবিষ্কার করার সুযোগ পেয়েছি। অনেক দিন পর এমন একটি চরিত্র পেয়েছি, যেটি আমাকে ভিন্নভাবে ভাবার সুযোগ দিয়েছে। পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয়ও অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজটি করেছেন।‘লজ্জা’ সিনেমায় বাঁধনের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?এক কথায় বললে, খুব ভালো। বাঁধনের মতো একজন শক্তিশালী অভিনেত্রীর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করার সুযোগ অবশ্যই আনন্দের। আশা করছি, দর্শক আমাদের কাজ পছন্দ করবেন।‘লজ্জা’ আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। এটি সমাজসচেতনতামূলক গল্পের সিনেমা। তাই কাজটির প্রতি আমার আগ্রহও অনেক বেশি ছিল।‘ট্রাইব্যুনাল’ সিনেমা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত কেন নিতে হলো?কিছু অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে আমার পক্ষে আর কাজটি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তখন পর্যন্ত আমার অংশের শুটিংও শুরু হয়নি। নির্মাতা রায়হান খান আমার খুব কাছের একজন মানুষ। বিষয়টি নিয়ে আমরা কথা বলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।গায়িকা হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার বিষয়টি কীভাবে দেখেন? গান আমার খুব পছন্দের একটি জায়গা। ‘পটাকা’ থেকে ‘লোকে বলে’—দুটি গানেই দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছি। ‘লোকে বলে’ গানটির মাধ্যমে আমি বলতে চেয়েছি, মানুষ অনেক কথা বলবে। কিন্তু নিজের স্বপ্ন ও ইচ্ছার পথে এগিয়ে যাওয়া থামানো উচিত নয়। শুধু ভিউ বা সংখ্যার হিসাবের চেয়ে মানুষ গানটি উপভোগ করেছেন—এটাই আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অভিনয় আমার প্রধান কাজ, আর গান আমার সৃজনশীলতার আরেকটি দিক।সমালোচনাকে কীভাবে দেখেন?সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবেই দেখি বলতে পারেন। তারকা জীবনের অংশ হিসেবেই সমালোচনাকে গ্রহণ করি। সবকিছু যদি ব্যক্তিগতভাবে নিতে থাকি, তাহলে সামনে এগিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। তাই নিজের কাজের প্রতি মনোযোগ দেওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি।তারকা জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিক কোনটি?বাইরে থেকে তারকা জীবন যতটা ঝলমলে মনে হয়, ভেতরে আসলে ততটা নয়। প্রতিদিনই একটা সংগ্রাম থাকে। প্রতিনিয়ত নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করতে হয়। মানুষের প্রত্যাশা যেমন থাকে, তেমনি নিজের কাছেও নিজের প্রত্যাশা থাকে।আগামী দিনের স্বপ্ন কী?অবশ্যই ভালো কাজ করতে চাই। দর্শকের ভালোবাসা আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। কঠিন সময় এলেও আমি বিশ্বাস করি, সামনে আরও ভালো কিছু অপেক্ষা করছে।অভিনয় ও গান—দুই ক্ষেত্রেই নিজেকে আরও চ্যালেঞ্জ করতে চাই। আরও পরিণত হতে চাই। দেশের পাশাপাশি বিদেশের দর্শকের কাছেও আরও ভালোভাবে পৌঁছাতে চাই।

‘বাইরে থেকে তারকা জীবন যতটা ঝলমলে, ভেতরে ততটা নয়’: নুসরাত ফারিয়া