গবেষণা জীবনের গতিপথ বদলে দিতে পারে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেছেন, ফিলোসপিক্যাল প্রশ্নগুলো যদি বুঝার চেষ্টা করি, তাহলে আমরা গবেষণা করার উদ্দেশ্য খুঁজে পাব। গবেষণা আমাদেরকে শুধুমাত্র পরীক্ষায় পাস করা বা প্রমোশন দেয় না। গবেষণা করতে করতে আপনি এমন কিছু খুঁজে পাবেন যা আপনার জীবনের গতিপথ বদলে দিতে পারে। এ কারণেই সবার এই প্রশ্নটা করা উচিত, আমি কেন রিসার্চ করছি? কী পেতে চাই? মানুষদের কী দিতে চাই?
সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রফেসর এস জি এম চৌধুরী মিলনায়তনে ডিপার্টমেন্ট অব মেডিসিন ও গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ‘দ্যা রিসার্চ জার্নি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গবেষণার সবচেয়ে বড় ইমপ্যাক্ট হচ্ছে যখন সেই গবেষণা কোন দেশের বা ইন্টারন্যাশনালি কোন সাবজেক্ট-এর পলিসিতে চেইঞ্জ নিয়ে আসে। পলিসিতে একটি বাক্য বদলে যায়। সেই বাক্যের কারণে বাজেট বদলে যায়। সেই কারণে লাখ লাখ মানুষ নতুন ট্রিটমেন্ট পায়, যা সে আগে পেত না। রিসার্চ এর কারণে নতুন নতুন প্রোগ্রাম ডেভলেপ হয়।
তিনি আরও বলেন, এমন প্রতিকূল পরিবেশে দিনে ৫০/১০০টা রোগী দেখলে আপনার এনার্জি, মাইন্ডসেট কোন কিছুই ভালো রিসার্চ-এর জন্য আপনাকে অ্যালাউ করবে না। আপনি ভালো আউটপুট দিতে পারবেন না। বিদেশের ডাক্তারেরা একটি ওটি তে দু’টি অপারেশন করে। তাদের হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকে রোগীকে অবজার্ব করার। কিন্তু আপনাকে করতে হয় ৮টা সার্জারি, আপনি ব্যস্ত থাকেন বেস্ট সার্জারিটা করতে, রোগীকে বেস্ট সেবাটি দিতে। গবেষণায় যে পরিমাণ সময় দরকার, যে পরিবেশ দরকার আমাদের দেশের ইন্সটিটিউটগুলোতে চিকিৎসকদের সে সময়টা আমরা দিতে পারি না বলেই তারা গবেষণা করে না।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের দেশের কোন চিকিৎসক যখন বিদেশে যায়, দেখবেন তারা আগের চেয়ে বেশি পাবলিকেশন করছে। কারণ উনাকে ওখানে ডেডিকেটেড সময় দেওয়া হয় গবেষণা করার জন্যে। গবেষণা কোন বাই প্রডাক্ট না। গবেষণা রোগী দেখার মতো আরেকটি কাজ। দ্বিতীয়ত, আমরা ভাবি অনেক সংখ্যা থাকলে রিসার্চ ভালো হয়। এটি ভুল ধারণা।
তিনি বলে, একটি রিসার্চ শুধুমাত্র তার পাবলিকেশনে শেষ হয়ে যায় না। অনেকক্ষেত্রে রিসার্চ এর ইম্প্যাক্ট শুরু হয় পাবলিকেশনের দিন থেকে। পাবলিকেশন ইম্প্যাক্টফুল জার্নির দিকে নিয়ে যায় আমাদেরকে।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইশতেহারে ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ বলে আমরা কিছু কথা বলেছি। সেখানে ২০টি জিনিসের সেখানে উল্লেখ করেছি। এই ২০টি জিনিস স্বাস্থ্য সেক্টরে আমাদের সরকারের প্রায়োরিটি। আপনি যদি সে বিষয়গুলো পড়েন, সেখানে আপনার প্রায়োরিটি খুঁজে পেতে পারেন। যেমন, আপনি যদি প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নিয়ে রিসার্চ করতে চান, এখনই আপনার সময়। এই সেক্টর আমরা পুনর্বিন্যাস করবো। এই জিনিসগুলো একজন গবেষকের খেয়াল রাখা উচিত, কোন বিষয়গুলোকে পলিসিতে কোন জিনিসগুলোকে প্রায়োরাটাইজ করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন, ঢাকা মেডিকেলের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার এ কে এম ফরহাদ ও ঢাকা মেডিকেলের ডাক্তার ও গবেষণা শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।