দিনাজপুরে আজ থেকে ৩ দিনব্যাপি জেলা ইজতেমা শুরু হচ্ছে। রবিবার আখেরী মুনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে। এরই মধ্যে ইজতেমার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কর্তৃপক্ষ
আজ শুক্রবার (৬ নভেম্বর ২০২৬) বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ বড়ময়দানে ৩ দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা শুরু হবে। রোববার (৮ নভেম্বর ২০২৬) তারিখ আখেরি মুনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে।
জেলা তাবলীগ জামাতের আয়োজনে ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের জন্য প্যান্ডেল, ওজুখানাসহ মেহমানদের থাকার ঘর তৈরির কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে।
এই ইজতেমায় দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলা, পাশের ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রামসহ আশপাশের এলাকা থেকে আগত তাবলীগ জামাতের সাথীরা অংশ নেবেন। জেলা ও থানাভিত্তিক মুসল্লিদের অবস্থান সনাক্তের জন্য ইজতেমায় আগত মুসল্লিরা খিত্তাওয়ারী ইজতেমা মাঠে অবস্থান করবেন।
দিনাজপুর জেলা তাবলীগ জামাতের আমির (আমিরে ফয়সাল) এবং হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম জানান, বাংলাদেশের আমিরে ফয়সাল ও ঢাকার কাকরাইলের জিম্মাদারসহ (দায়িত্বশীল) আরও কয়েকজন জিম্মাদার ইজতেমায় আসবেন ও বয়ান পেশ করবেন।
জেলা তাবলীগের এক জিম্মাদার জানান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও সুদানের জামাতগুলো এরই মধ্যে দিনাজপুরে অবস্থান করছেন। আরও কয়েকটি দেশের জামাত আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বিদেশি জামাতের জিম্মারগন ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের সামনে বয়ান পেশ করবেন।
এদিকে ইজতেমা শুক্রবার থেকে শুরু হলেও বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই দলে দলে মুসল্লিরা জামাত নিয়ে ইজতেমা ময়দানে উপস্থিত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে ইজতেমা মাঠে দেখা গেছে, স্বেচ্ছায় শ্রম দিয়ে ইজতেমার প্যান্ডেলসহ অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করেছেন মুসল্লিরা। তাদের অজু-গোসলের পানি সরবরাহের জন্য টিউবওয়েল, একটি সাব-মারসেবল পাম্প ও মোটর বসানো হয়েছে। নিরাপদ স্যানিটেশনের জন্য দুই শতাধিক টয়লেট তৈরি করা হয়েছে। বিদেশি মেহমান ও তাবলীগ জামাতের বৃদ্ধ সাথিদের জন্য মাঠের দক্ষিণ পাশে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ কক্ষ।
২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো দিনাজপুরে জেলা ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর করোনার কারণে দুই বছর ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়নি। এবার নিয়ে দিনাজপুরে অষ্টমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই ইজতেমা।
নিজামুদ্দিনের অনুসারি কাকরাইলের মোঃ হারুন-অর-রশিদ জানান, জেলায় ইজতেমা করার কারণ হলো গ্রাম-গঞ্জের শতভাগ মানুষ যাতে আল্লাহর হুকুম মেনে এবং নবীর তরিকায় চলে জান্নাতে যেতে পারেন সে জন্যই দেশের ৬৪টি জেলায় ইজতেমার আয়োজন করা হয়। ঢাকার টঙ্গীতে যে বিশ্ব ইজতেমা হয়, সেখানে অনেক মানুষ অর্থের অভাবে অংশগ্রহণ করতে পারেন না। এ কারণেই মূলত জেলায় জেলায় ইজতেমার আয়োজন করা হয়ে থাকে।
দিনাজপুর কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নুরনবী জানান, ইজতেমা উপলক্ষে এখানে পোশাকধারী ও সিভিলে পুলিশ থাকবে। আমরা ইজতেমার নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট শক্তিশালী করেছি। এখানে কোন চুরি, ছিনতাই অথবা কোন মুসল্লি যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা হয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক এখানে থাকবো। মুসল্লিরা নিরাপত্তা সহকারেই তাদের ইজতেমা শেষ করতে পারবেন।
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬
দিনাজপুরে আজ থেকে ৩ দিনব্যাপি জেলা ইজতেমা শুরু হচ্ছে। রবিবার আখেরী মুনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে। এরই মধ্যে ইজতেমার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কর্তৃপক্ষ
আজ শুক্রবার (৬ নভেম্বর ২০২৬) বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ বড়ময়দানে ৩ দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা শুরু হবে। রোববার (৮ নভেম্বর ২০২৬) তারিখ আখেরি মুনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে।
জেলা তাবলীগ জামাতের আয়োজনে ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের জন্য প্যান্ডেল, ওজুখানাসহ মেহমানদের থাকার ঘর তৈরির কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে।
এই ইজতেমায় দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলা, পাশের ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রামসহ আশপাশের এলাকা থেকে আগত তাবলীগ জামাতের সাথীরা অংশ নেবেন। জেলা ও থানাভিত্তিক মুসল্লিদের অবস্থান সনাক্তের জন্য ইজতেমায় আগত মুসল্লিরা খিত্তাওয়ারী ইজতেমা মাঠে অবস্থান করবেন।
দিনাজপুর জেলা তাবলীগ জামাতের আমির (আমিরে ফয়সাল) এবং হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম জানান, বাংলাদেশের আমিরে ফয়সাল ও ঢাকার কাকরাইলের জিম্মাদারসহ (দায়িত্বশীল) আরও কয়েকজন জিম্মাদার ইজতেমায় আসবেন ও বয়ান পেশ করবেন।
জেলা তাবলীগের এক জিম্মাদার জানান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও সুদানের জামাতগুলো এরই মধ্যে দিনাজপুরে অবস্থান করছেন। আরও কয়েকটি দেশের জামাত আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বিদেশি জামাতের জিম্মারগন ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের সামনে বয়ান পেশ করবেন।
এদিকে ইজতেমা শুক্রবার থেকে শুরু হলেও বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই দলে দলে মুসল্লিরা জামাত নিয়ে ইজতেমা ময়দানে উপস্থিত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে ইজতেমা মাঠে দেখা গেছে, স্বেচ্ছায় শ্রম দিয়ে ইজতেমার প্যান্ডেলসহ অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করেছেন মুসল্লিরা। তাদের অজু-গোসলের পানি সরবরাহের জন্য টিউবওয়েল, একটি সাব-মারসেবল পাম্প ও মোটর বসানো হয়েছে। নিরাপদ স্যানিটেশনের জন্য দুই শতাধিক টয়লেট তৈরি করা হয়েছে। বিদেশি মেহমান ও তাবলীগ জামাতের বৃদ্ধ সাথিদের জন্য মাঠের দক্ষিণ পাশে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ কক্ষ।
২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো দিনাজপুরে জেলা ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর করোনার কারণে দুই বছর ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়নি। এবার নিয়ে দিনাজপুরে অষ্টমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই ইজতেমা।
নিজামুদ্দিনের অনুসারি কাকরাইলের মোঃ হারুন-অর-রশিদ জানান, জেলায় ইজতেমা করার কারণ হলো গ্রাম-গঞ্জের শতভাগ মানুষ যাতে আল্লাহর হুকুম মেনে এবং নবীর তরিকায় চলে জান্নাতে যেতে পারেন সে জন্যই দেশের ৬৪টি জেলায় ইজতেমার আয়োজন করা হয়। ঢাকার টঙ্গীতে যে বিশ্ব ইজতেমা হয়, সেখানে অনেক মানুষ অর্থের অভাবে অংশগ্রহণ করতে পারেন না। এ কারণেই মূলত জেলায় জেলায় ইজতেমার আয়োজন করা হয়ে থাকে।
দিনাজপুর কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নুরনবী জানান, ইজতেমা উপলক্ষে এখানে পোশাকধারী ও সিভিলে পুলিশ থাকবে। আমরা ইজতেমার নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট শক্তিশালী করেছি। এখানে কোন চুরি, ছিনতাই অথবা কোন মুসল্লি যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা হয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক এখানে থাকবো। মুসল্লিরা নিরাপত্তা সহকারেই তাদের ইজতেমা শেষ করতে পারবেন।
মতামত