বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দিনাজপুর জেলা শাখার নতুন আমীর নির্বাচিত হয়েছেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ ও গবেষক মুহাদ্দিস ডক্টর এনামুল হক।
২০২৭-২০২৮ সেশনের জন্য তিনি এ দায়িত্ব পেয়েছেন। ছাত্রসংগঠনের মাধ্যমে সাংগঠনিক জীবনের সূচনা, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, মাদরাসায় শিক্ষকতা, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় অর্জন-সব মিলিয়ে তাঁর জীবন ও কর্মপরিধি বিস্তৃত। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে এবার তিনি দিনাজপুর জেলা জামায়াতের সর্বোচ্চ সাংগঠনিক দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হলেন।
গত ২২ অক্টোবর -৩০২৬ তারিখ দিনাজপুর শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত দিনাজপুর জেলা জামায়াতের রুকন সম্মেলনে ১ হাজার ৮ শত পুরুষ ও নারী রুকনের ভোটগ্রহণের মাধ্যমে তিনি আমীর নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে দলের আমীর ডা. শফিকুর রহমান সারা দেশের ৭৭টি জেলা ও মহানগর শাখার নির্বাচিত আমীরদের নাম ঘোষণা করেন।
ছাত্রসংগঠন থেকে জেলা নেতৃত্বে দীর্ঘ পথচলা:-মুহাদ্দিস ডক্টর এনামুল হকের সাংগঠনিক জীবনের সূচনা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের মাধ্যমে। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথী হিসেবে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তাঁর সাংগঠনিক যাত্রা শুরু হয়। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত জয়পুরহাট শহর শাখার পাঠাগার সম্পাদক, অফিস সম্পাদক ও শহর সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬-১৯৯৭ সালে ঢাকার তা'মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার কামিল শ্রেণির শহীদ আব্দুল মালেক ওয়ার্ডে পাঠাগার ও অফিস সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে সাংগঠনিক দায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
☞ ২০০৩ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিরামপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সাল থেকে উপজেলা আমীরের পাশাপাশি দিনাজপুর জেলা কর্মপরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
☞ ২০১৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বিরামপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। এরপর একই বছর জেলা কর্মপরিষদের সদস্য ও জেলা প্রচার এবং মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারির দায়িত্ব পান।
☞ ২০১৬ সালে অবিভক্ত দিনাজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এবং ২০১৮ সালে দিনাজপুর দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা শাখার সেক্রেটারি ও পরে নায়েবে আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
☞ ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে অবিভক্ত দিনাজপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ধারাবাহিক সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এবার তিনি জেলা জামায়াতের আমীর নির্বাচিত হলেন।
শিক্ষাজীবনে কৃতিত্ব ও রাষ্ট্রপতি গোল্ড মেডেল অর্জন:-১৯৭৭ সালের ১ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন মুহাদ্দিস ড. এনামুল হক। তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয় মাদরাসা শিক্ষার ধারায়। ১৯৯১ সালে দাখিল এবং ১৯৯৩ সালে জয়পুরহাটের হানাইল নো'মানিয়া কামিল মাদরাসা থেকে আলিম ও ফাজিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে ঢাকার মীরহাজিরবাগের তা'মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা থেকে কামিল ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০২ সালে দিনাজপুর সরকারি কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে ইসলামী উচ্চশিক্ষায় আরও অগ্রসর হয়ে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির ইসলামী স্টাডিজ বিভাগ থেকে এমএ পরীক্ষায় এবং মানবিক ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করেন। অসাধারণ এই ফলাফলের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি রাষ্ট্রপতি গোল্ড মেডেল লাভ করেন। ২০০৭ সালে ঢাকার চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদের হাত থেকে তিনি এই পদক গ্রহণ করেন। এ ছাড়া তিনি কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। তাঁর পিএইচডি গবেষণার বিষয় 'আল হাদীসে বর্ণিত প্রাচীন জাতিগোষ্ঠী: কাহিনী ও শিক্ষা'। বিষয়টি তাঁর ইসলামি ইতিহাস, হাদীস ও প্রাচীন জাতিগোষ্ঠীর জীবনচর্চা নিয়ে গবেষণামুখী আগ্রহের পরিচয় বহন করে।
শিক্ষকতা, হাদীসচর্চা ও গবেষণায় সম্পৃক্ততা:-শিক্ষকতা তাঁর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯৯৮ সালের ৯ আগস্ট বিরামপুর উপজেলার বিজুল দারুল হুদা কামিল মাদরাসায় কামিল শ্রেণির হাদীস বিভাগের মুহাদ্দিস হিসেবে যোগদান করেন। দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা ও একাডেমিক অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় বর্তমানে তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান মুহাদ্দিস (সহকারী অধ্যাপক) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
একাধিকবার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত:- তিনি ২০০৪ সালে বিরামপুর উপজেলার শ্রেষ্ঠ শ্রেণী শিক্ষক নির্বাচিত হোন।
২০২৫ সালে বিরামপুর উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন।
সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় অবদান:- শিক্ষকতার পাশাপাশি গবেষণামূলক লেখালেখিতেও তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। ছাত্রজীবন থেকেই পত্রপত্রিকায় লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। তাঁর শতাধিক গবেষণামূলক প্রবন্ধ, ইসলামি চিন্তাধারাভিত্তিক নিবন্ধ ও সমসাময়িক বিষয়ক লেখা বিভিন্ন পত্রিকা ও সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত লেখার মধ্যে রয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ষান্মাসিক জার্নাল, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার ষান্মাসিক সাময়িকী, সোনার বাংলা সীরাতুন্নবী (সা.) ম্যাগাজিন, সংগ্রাম সীরাতুন্নবী (সা.) ম্যাগাজিন, ছাত্র সংবাদ, দ্বিমাসিক মাদরাসা ও শ্রমিক বার্তাসহ বিভিন্ন প্রকাশনাবিরামপুর প্রেসক্লাবের সহসভাপতি ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। দৈনিক নয়া দিগন্ত ও দৈনিক সংগ্রামসহ জাতীয় এবং স্থানীয় পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি করেন মুহাদ্দিস ডক্টর এনামুল হক।
রাজনৈতিক জীবনে প্রতিকূলতা ও কারাবরণের অভিজ্ঞতা:- দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন মুহাদ্দিস ডক্টর এনামুল হক। ২০১২ সাল থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়ের করা বিভিন্ন মামলায় তাঁকে ছয়বার কারাগারে যেতে হয়েছে।
সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কাজঃ- রাজনৈতিক ও শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও সম্পৃক্ত রয়েছেন তিনি। বিরামপুর আল-মারুফ ট্রাস্টের সেক্রেটারি, বিরামপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি এবং ডায়াবেটিস অ্যান্ড হেলথ কেয়ার সেন্টারের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষা বিস্তার, নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণকে সমাজ পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করেন তিনি। ধর্মীয় শিক্ষা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের সমন্বয়ে সমাজের কল্যাণে কাজ করাকে তাঁর জীবনচর্চার অন্যতম দিক হিসেবে দেখা যায়।
পারিবারিক জীবন:- ব্যক্তিগত জীবনে তিনি চার সন্তানের জনক। তাঁর স্ত্রী বিরামপুর উপজেলা জামায়াতের মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের সন্তানদের মধ্যে বড় ছেলে এমবিবিএস সম্পন্ন করেছেন, পুত্রবধূ এমবিবিএস ফাইনাল বর্ষে এবং এক মেয়ে এমবিবিএস প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত। তিনি হজ্জ ও উমরাহ পালনে পবিত্র মক্কা ও মদিনায় সফর করেছেন। ভারতের কলকাতা, ব্যাঙ্গালোর, মালদহ ও বালুরঘাট এলাকায় সফর করেন।
নতুন দায়িত্বে নতুন প্রত্যাশা:- একজন মাদরাসাশিক্ষক থেকে গবেষক, ছাত্রসংগঠনের কর্মী থেকে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সাংগঠনিক নেতৃত্ব-মুহাদ্দিস ড. এনামুল হকের জীবনপথে রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার সমন্বয়। শিক্ষকতা, গবেষণা, সাংবাদিকতা, সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তিনি নিজস্ব কর্মপরিসর তৈরি করেছেন।
২০২৭-২০২৮ সেশনে দিনাজপুর জেলা জামায়াতের আমীর হিসেবে তাঁর নির্বাচিত হওয়া সংগঠনটির জেলা পর্যায়ের নেতৃত্বে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, শিক্ষা ও গবেষণার পটভূমি কাজে লাগিয়ে তিনি কীভাবে সংগঠন পরিচালনা করেন এবং জেলার সাংগঠনিক কার্যক্রমকে এগিয়ে নেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন দলীয় নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট মহল।
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দিনাজপুর জেলা শাখার নতুন আমীর নির্বাচিত হয়েছেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ ও গবেষক মুহাদ্দিস ডক্টর এনামুল হক।
২০২৭-২০২৮ সেশনের জন্য তিনি এ দায়িত্ব পেয়েছেন। ছাত্রসংগঠনের মাধ্যমে সাংগঠনিক জীবনের সূচনা, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, মাদরাসায় শিক্ষকতা, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় অর্জন-সব মিলিয়ে তাঁর জীবন ও কর্মপরিধি বিস্তৃত। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে এবার তিনি দিনাজপুর জেলা জামায়াতের সর্বোচ্চ সাংগঠনিক দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হলেন।
গত ২২ অক্টোবর -৩০২৬ তারিখ দিনাজপুর শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত দিনাজপুর জেলা জামায়াতের রুকন সম্মেলনে ১ হাজার ৮ শত পুরুষ ও নারী রুকনের ভোটগ্রহণের মাধ্যমে তিনি আমীর নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে দলের আমীর ডা. শফিকুর রহমান সারা দেশের ৭৭টি জেলা ও মহানগর শাখার নির্বাচিত আমীরদের নাম ঘোষণা করেন।
ছাত্রসংগঠন থেকে জেলা নেতৃত্বে দীর্ঘ পথচলা:-মুহাদ্দিস ডক্টর এনামুল হকের সাংগঠনিক জীবনের সূচনা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের মাধ্যমে। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথী হিসেবে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তাঁর সাংগঠনিক যাত্রা শুরু হয়। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত জয়পুরহাট শহর শাখার পাঠাগার সম্পাদক, অফিস সম্পাদক ও শহর সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬-১৯৯৭ সালে ঢাকার তা'মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার কামিল শ্রেণির শহীদ আব্দুল মালেক ওয়ার্ডে পাঠাগার ও অফিস সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে সাংগঠনিক দায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
☞ ২০০৩ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিরামপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সাল থেকে উপজেলা আমীরের পাশাপাশি দিনাজপুর জেলা কর্মপরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
☞ ২০১৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বিরামপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। এরপর একই বছর জেলা কর্মপরিষদের সদস্য ও জেলা প্রচার এবং মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারির দায়িত্ব পান।
☞ ২০১৬ সালে অবিভক্ত দিনাজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এবং ২০১৮ সালে দিনাজপুর দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা শাখার সেক্রেটারি ও পরে নায়েবে আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
☞ ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে অবিভক্ত দিনাজপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ধারাবাহিক সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এবার তিনি জেলা জামায়াতের আমীর নির্বাচিত হলেন।
শিক্ষাজীবনে কৃতিত্ব ও রাষ্ট্রপতি গোল্ড মেডেল অর্জন:-১৯৭৭ সালের ১ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন মুহাদ্দিস ড. এনামুল হক। তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয় মাদরাসা শিক্ষার ধারায়। ১৯৯১ সালে দাখিল এবং ১৯৯৩ সালে জয়পুরহাটের হানাইল নো'মানিয়া কামিল মাদরাসা থেকে আলিম ও ফাজিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে ঢাকার মীরহাজিরবাগের তা'মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা থেকে কামিল ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০২ সালে দিনাজপুর সরকারি কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে ইসলামী উচ্চশিক্ষায় আরও অগ্রসর হয়ে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির ইসলামী স্টাডিজ বিভাগ থেকে এমএ পরীক্ষায় এবং মানবিক ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদে সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করেন। অসাধারণ এই ফলাফলের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি রাষ্ট্রপতি গোল্ড মেডেল লাভ করেন। ২০০৭ সালে ঢাকার চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদের হাত থেকে তিনি এই পদক গ্রহণ করেন। এ ছাড়া তিনি কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। তাঁর পিএইচডি গবেষণার বিষয় 'আল হাদীসে বর্ণিত প্রাচীন জাতিগোষ্ঠী: কাহিনী ও শিক্ষা'। বিষয়টি তাঁর ইসলামি ইতিহাস, হাদীস ও প্রাচীন জাতিগোষ্ঠীর জীবনচর্চা নিয়ে গবেষণামুখী আগ্রহের পরিচয় বহন করে।
শিক্ষকতা, হাদীসচর্চা ও গবেষণায় সম্পৃক্ততা:-শিক্ষকতা তাঁর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯৯৮ সালের ৯ আগস্ট বিরামপুর উপজেলার বিজুল দারুল হুদা কামিল মাদরাসায় কামিল শ্রেণির হাদীস বিভাগের মুহাদ্দিস হিসেবে যোগদান করেন। দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা ও একাডেমিক অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় বর্তমানে তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান মুহাদ্দিস (সহকারী অধ্যাপক) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
একাধিকবার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত:- তিনি ২০০৪ সালে বিরামপুর উপজেলার শ্রেষ্ঠ শ্রেণী শিক্ষক নির্বাচিত হোন।
২০২৫ সালে বিরামপুর উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন।
সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় অবদান:- শিক্ষকতার পাশাপাশি গবেষণামূলক লেখালেখিতেও তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। ছাত্রজীবন থেকেই পত্রপত্রিকায় লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। তাঁর শতাধিক গবেষণামূলক প্রবন্ধ, ইসলামি চিন্তাধারাভিত্তিক নিবন্ধ ও সমসাময়িক বিষয়ক লেখা বিভিন্ন পত্রিকা ও সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত লেখার মধ্যে রয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ষান্মাসিক জার্নাল, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার ষান্মাসিক সাময়িকী, সোনার বাংলা সীরাতুন্নবী (সা.) ম্যাগাজিন, সংগ্রাম সীরাতুন্নবী (সা.) ম্যাগাজিন, ছাত্র সংবাদ, দ্বিমাসিক মাদরাসা ও শ্রমিক বার্তাসহ বিভিন্ন প্রকাশনাবিরামপুর প্রেসক্লাবের সহসভাপতি ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। দৈনিক নয়া দিগন্ত ও দৈনিক সংগ্রামসহ জাতীয় এবং স্থানীয় পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি করেন মুহাদ্দিস ডক্টর এনামুল হক।
রাজনৈতিক জীবনে প্রতিকূলতা ও কারাবরণের অভিজ্ঞতা:- দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন মুহাদ্দিস ডক্টর এনামুল হক। ২০১২ সাল থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়ের করা বিভিন্ন মামলায় তাঁকে ছয়বার কারাগারে যেতে হয়েছে।
সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কাজঃ- রাজনৈতিক ও শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও সম্পৃক্ত রয়েছেন তিনি। বিরামপুর আল-মারুফ ট্রাস্টের সেক্রেটারি, বিরামপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি এবং ডায়াবেটিস অ্যান্ড হেলথ কেয়ার সেন্টারের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষা বিস্তার, নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণকে সমাজ পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করেন তিনি। ধর্মীয় শিক্ষা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের সমন্বয়ে সমাজের কল্যাণে কাজ করাকে তাঁর জীবনচর্চার অন্যতম দিক হিসেবে দেখা যায়।
পারিবারিক জীবন:- ব্যক্তিগত জীবনে তিনি চার সন্তানের জনক। তাঁর স্ত্রী বিরামপুর উপজেলা জামায়াতের মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের সন্তানদের মধ্যে বড় ছেলে এমবিবিএস সম্পন্ন করেছেন, পুত্রবধূ এমবিবিএস ফাইনাল বর্ষে এবং এক মেয়ে এমবিবিএস প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত। তিনি হজ্জ ও উমরাহ পালনে পবিত্র মক্কা ও মদিনায় সফর করেছেন। ভারতের কলকাতা, ব্যাঙ্গালোর, মালদহ ও বালুরঘাট এলাকায় সফর করেন।
নতুন দায়িত্বে নতুন প্রত্যাশা:- একজন মাদরাসাশিক্ষক থেকে গবেষক, ছাত্রসংগঠনের কর্মী থেকে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সাংগঠনিক নেতৃত্ব-মুহাদ্দিস ড. এনামুল হকের জীবনপথে রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার সমন্বয়। শিক্ষকতা, গবেষণা, সাংবাদিকতা, সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তিনি নিজস্ব কর্মপরিসর তৈরি করেছেন।
২০২৭-২০২৮ সেশনে দিনাজপুর জেলা জামায়াতের আমীর হিসেবে তাঁর নির্বাচিত হওয়া সংগঠনটির জেলা পর্যায়ের নেতৃত্বে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, শিক্ষা ও গবেষণার পটভূমি কাজে লাগিয়ে তিনি কীভাবে সংগঠন পরিচালনা করেন এবং জেলার সাংগঠনিক কার্যক্রমকে এগিয়ে নেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন দলীয় নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট মহল।
মতামত