সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
উত্তরের চোখ

মূল পাতা

সারাদেশ

সিরাজগঞ্জ -পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী বা সর্বহারা দলের সদস্যদের আত্মসমর্পণ

সিরাজগঞ্জ -পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী বা সর্বহারা দলের সদস্যদের আত্মসমর্পণ

একসময় সশস্ত্র চরমপন্থীদের তৎপরতায় আতঙ্কের জনপদে পরিণত হওয়া সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৬৫ সর্বহারা সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন। অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রত্যয়ে রোববার (১ নভেম্বর-২০২৬খ্রি.) দুপুরে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গায় এসআরবি-১২-এর সদর দফতরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তারা আত্মসমর্পণ করেন।‘চরমপন্থি সর্বহারা সদস্যদের আত্মসমর্পণ-২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মিস ফারজানা শারমীন। তিনি বলেন, ‘যারা ভুল পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আত্মসমর্পণ করেছেন, তাদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরিবার ও সমাজে তাদের সম্মানজনকভাবে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি করতে সরকার কাজ করবে।' অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের জাতীয়  সংসদ সদস্য মোঃ আমিরুল ইসলাম খান আলিম, এসআরবি ফোর্সেসের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মোঃ আহসান হাবিব পলাশ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল ইফতেখার আহমেদ, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ আশিক সাঈদ এবং রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) শাহানা আখতার জাহান। এসআরবি-১২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ আতিকুর রহমান মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু (বিপিএম), সহ পুলিশের ও এসআরবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্কোয়াড্রন লিডার ফিরোজ।আত্মসমর্পণকারী মাজেদ আলী মুন্সী বলেন, ‘অন্ধকারের পথ ছেড়ে আলোর পথে আসতে পেরে আজ খুবই ভালো লাগছে।’ আরেক সদস্য আইনুল হোসেন জানান, ভুল পথে চলতে গিয়ে জীবনের ১৫টি বছর হারিয়েছেন। দীর্ঘদিন বাড়ি ও পরিবারের বাইরে থাকতে হয়েছে। আত্মসমর্পণকারী আলম সেখ বলেন, ‘প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অভাবসহ নানা পরিস্থিতিতে অনেকেই দস্যুবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন।'আয়োজকরা জানান, আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। 

উল্লেখ্য, একসময় এ অঞ্চলে ১৪টি চরমপন্থি সংগঠনের তৎপরতা ছিল। ১৯৯৮খ্রি. সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে শতাধিক সদস্য অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। ২০১৯খ্রি. পাবনায় ৫৯৬ জন এবং ২০২৩খ্রি. সিরাজগঞ্জে সাত জেলার ৩২৩ জন চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। এর ধারাবাহিকতায় এবার আরও ৬৫ জন আত্মসমর্পণ করলেন।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

সিরাজগঞ্জ -পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী বা সর্বহারা দলের সদস্যদের আত্মসমর্পণ
0:00 0:00
1.0x
উত্তরের চোখ

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


সিরাজগঞ্জ -পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৬৫ জন চরমপন্থী বা সর্বহারা দলের সদস্যদের আত্মসমর্পণ

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

একসময় সশস্ত্র চরমপন্থীদের তৎপরতায় আতঙ্কের জনপদে পরিণত হওয়া সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার ৬৫ সর্বহারা সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন। অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রত্যয়ে রোববার (১ নভেম্বর-২০২৬খ্রি.) দুপুরে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গায় এসআরবি-১২-এর সদর দফতরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তারা আত্মসমর্পণ করেন।‘চরমপন্থি সর্বহারা সদস্যদের আত্মসমর্পণ-২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মিস ফারজানা শারমীন। তিনি বলেন, ‘যারা ভুল পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আত্মসমর্পণ করেছেন, তাদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরিবার ও সমাজে তাদের সম্মানজনকভাবে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি করতে সরকার কাজ করবে।' অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের জাতীয়  সংসদ সদস্য মোঃ আমিরুল ইসলাম খান আলিম, এসআরবি ফোর্সেসের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মোঃ আহসান হাবিব পলাশ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল ইফতেখার আহমেদ, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ আশিক সাঈদ এবং রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) শাহানা আখতার জাহান। এসআরবি-১২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ আতিকুর রহমান মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু (বিপিএম), সহ পুলিশের ও এসআরবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্কোয়াড্রন লিডার ফিরোজ।আত্মসমর্পণকারী মাজেদ আলী মুন্সী বলেন, ‘অন্ধকারের পথ ছেড়ে আলোর পথে আসতে পেরে আজ খুবই ভালো লাগছে।’ আরেক সদস্য আইনুল হোসেন জানান, ভুল পথে চলতে গিয়ে জীবনের ১৫টি বছর হারিয়েছেন। দীর্ঘদিন বাড়ি ও পরিবারের বাইরে থাকতে হয়েছে। আত্মসমর্পণকারী আলম সেখ বলেন, ‘প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অভাবসহ নানা পরিস্থিতিতে অনেকেই দস্যুবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন।'আয়োজকরা জানান, আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। 


উল্লেখ্য, একসময় এ অঞ্চলে ১৪টি চরমপন্থি সংগঠনের তৎপরতা ছিল। ১৯৯৮খ্রি. সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে শতাধিক সদস্য অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। ২০১৯খ্রি. পাবনায় ৫৯৬ জন এবং ২০২৩খ্রি. সিরাজগঞ্জে সাত জেলার ৩২৩ জন চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। এর ধারাবাহিকতায় এবার আরও ৬৫ জন আত্মসমর্পণ করলেন।


উত্তরের চোখ

সম্পাদক: বাদশাহ ওসমানী 
প্রকাশক: মো: জসিম উদ্দিন

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত উত্তরের চোখ