শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
উত্তরের চোখ

মূল পাতা

খেলাধুলা

পুরস্কার নিতে স্পেনে ফিরে মেসি বললেন, বাবাও এটা উপভোগ করছেন

পুরস্কার নিতে স্পেনে ফিরে মেসি বললেন, বাবাও এটা উপভোগ করছেন

লিওনেল মেসিকে এক নজর দেখতে ওভিয়েদোর রাস্তায় দুই পাশে দাঁড়িয়ে শত শত ভক্ত। তাঁদের ভালোবাসা নিয়ে গতকাল পরিবারসহ স্পেনে ফেরেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। যুক্তরাষ্ট্রে মৌসুম চলার মাঝে মেসির স্পেনে ফিরেছেন একটি পুরস্কার নিতে। প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড। আজ বাংলাদেশ সময় রাতে পুরস্কারটি দেওয়া হবে।

ক্যারিয়ারে অনন্য অর্জন এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় নিজের দাতব্য ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ প্রিন্সেস আস্তুরিয়াস অব অ্যাওয়ার্ড ফর স্পোর্ট পাবেন মেসি। বেশ কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অবদান রাখা ব্যক্তি বা সংস্থাকে ১৯৮১ সাল থেকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

ওভিয়েদোয় হোটেল দে লা রেকনকিস্তায় উঠে স্প্যানিশ বার্তা সংস্থা ইএফইকে একটি সাক্ষাৎকার দেন মেসি। সেখানে এ পুরস্কার এবং বার্সেলোনায় থাকতে নিজের ক্যারিয়ার ও জীবন নিয়ে কথা বলেন ৩৯ বছর বয়সী ইন্টার মায়ামি ফরোয়ার্ড।

প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কারের গভীর ব্যক্তিগত তাৎপর্য রয়েছে মেসির কাছে। গত আগস্টে তাঁর বাবা হোর্হে মেসি মারা যাওয়ার আগে এই স্বীকৃতি নিয়ে দারুণ রোমাঞ্চিত ছিলেন। ব্যস্ত মৌসুমের মধ্যেও ছেলেকে ওভিয়েদোয় যাওয়ার তাগিদ দিয়েছিলেন হোর্হে।

মেসি সেই স্মৃতি স্মরণ করে বলেন, ‘আমি খুব খুশি। আমার বাবা এই পুরস্কার নিয়ে দারুণ রোমাঞ্চিত ছিলেন। ম্যাচ থাকায় এখানে আসা কঠিন হবে, আমরা তা জানতাম। কিন্তু এই পুরস্কার নিতে আমি যেন এখানে আসি, সে জন্য তিনি খুব জোর করেছিলেন। পুরো ক্যারিয়ারে আমি যা করেছি, এটি তার চেয়ে বেশি কিছু। এই স্বীকৃতিতে তিনি খুব খুশি হয়েছিলেন, তাই আমি নিশ্চিত যে তিনিও এটি উপভোগ করছেন।’

বাবার সঙ্গে মেসির সম্পর্ক অনেক আবেগের। অসুস্থতার পর গত ৮ আগস্ট ৬৮ বছর বয়সে মারা যান তাঁর বাবা। বাবার সঙ্গে গভীর বন্ধন নিয়ে আটবার ব্যালন ডি’অরজয়ী কিংবদন্তি বলেন, ‘আমি তাঁর সঙ্গে সব সময় কথা বলতাম।’ মেসি জানিয়েছেন, ম্যাচ এবং নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে বাবার সঙ্গে কথাটা তাঁর জীবনে অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল।

যেমন একসময় অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল বার্সার জার্সি পরে মাঠে নামাও। ২০০০ সালে কাতালান ক্লাবটির বয়সভিত্তিক দলে যোগ দেওয়ার ২১ বছর পর স্পেন ছাড়েন মেসি। মাঝের এই সময়ে বার্সার হয়ে প্রায় এমন কিছু নেই যে জেতেননি। সেই সময়টা কত উপভোগ্য ছিল, তা নিয়ে মেসি বলেন, ‘সবকিছু জেতার সৌভাগ্য হয়েছিল আমাদের এবং যেভাবে সেটা করেছি। খেলা, জয় ও গুরুত্বপূর্ণ অর্জনগুলো উপভোগের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেছি রোজকার অভিজ্ঞতা ও অনুশীলন। আমাদের সময়টা দারুণ কেটেছে।’

যে ক্লাবে সর্বকালের অন্যতম সেরা হিসেবে বেড়ে উঠেছেন, সেই বার্সা মেসির জীবনে ঠিক কতখানি? শুনুন কিংবদন্তির মুখেই, ‘অল্প কথায় বলা কঠিন। আমার জীবনের ক্লাব।’ বার্সেলোনায় মেসির তিন সন্তানের জন্ম এবং জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত তিনি এই শহরে কাটিয়েছেন। তাই আজও এই শহর ও ক্লাবের প্রতি মনে মনে ‘বিশেষ এক টান’ অনুভব করেন মেসি।

চলতি মাসেই আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ ম্যাচটি খেলেছেন মেসি। ক্লাব ফুটবলে খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে কত দিন খেলে যাবেন, সেটা প্রশ্ন। মেসির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, অবসর নেওয়ার পর মানুষ তাঁকে কীভাবে স্মরণে রাখবে বলে তিনি আশা করেন। তাঁর উত্তর, ‘একজন গ্রেট অ্যাথলেট হিসেবে, যে সব সময় লক্ষ্য ও স্বপ্ন পূরণে চেষ্টা করেছে। কখনো আমি চাওয়া অনুযায়ী অর্জনে সফল হয়েছি, আবার কখনো হইনি। কিন্তু সামনে যা এসেছে, তার প্রতিটিতে জয়ী হতে আমি কখনো চেষ্টা থামাইনি।’

মেসি মনে করেন, সেরেনা উইলিয়ামস, রাফায়েল নাদাল, মাইকেল শুমাখারের মতো কিংবদন্তিরা অতীতে এই পুরস্কার জেতায় তাঁদের তালিকায় নিজের নাম যোগ করতে পারাটা সম্মানের ব্যাপার।

প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কারের আয়োজন করে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ফাউন্ডেশন। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্পেনের রাজা ও রানি। ওভিয়েদোর তেত্রো কাম্পামোয়র থিয়েটারে প্রতিবছর অনুষ্ঠানটি হয়। পুরস্কারের সঙ্গে রয়েছে জোয়ান মিরোর নকশা করা একটি ভাস্কর্য, একটি সনদ, একটি প্রতীকী পদক এবং ৫০ হাজার ইউরো। স্পেনের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী, বর্তমানে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস লিওনর এই পুরস্কার প্রদান করেন। মোট আটটি ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

মেসি বার্সেলোনা স্পেন

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

পুরস্কার নিতে স্পেনে ফিরে মেসি বললেন, বাবাও এটা উপভোগ করছেন
0:00 0:00
1.0x
উত্তরের চোখ

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬


পুরস্কার নিতে স্পেনে ফিরে মেসি বললেন, বাবাও এটা উপভোগ করছেন

প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

লিওনেল মেসিকে এক নজর দেখতে ওভিয়েদোর রাস্তায় দুই পাশে দাঁড়িয়ে শত শত ভক্ত। তাঁদের ভালোবাসা নিয়ে গতকাল পরিবারসহ স্পেনে ফেরেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। যুক্তরাষ্ট্রে মৌসুম চলার মাঝে মেসির স্পেনে ফিরেছেন একটি পুরস্কার নিতে। প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড। আজ বাংলাদেশ সময় রাতে পুরস্কারটি দেওয়া হবে।

ক্যারিয়ারে অনন্য অর্জন এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় নিজের দাতব্য ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ প্রিন্সেস আস্তুরিয়াস অব অ্যাওয়ার্ড ফর স্পোর্ট পাবেন মেসি। বেশ কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অবদান রাখা ব্যক্তি বা সংস্থাকে ১৯৮১ সাল থেকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।

ওভিয়েদোয় হোটেল দে লা রেকনকিস্তায় উঠে স্প্যানিশ বার্তা সংস্থা ইএফইকে একটি সাক্ষাৎকার দেন মেসি। সেখানে এ পুরস্কার এবং বার্সেলোনায় থাকতে নিজের ক্যারিয়ার ও জীবন নিয়ে কথা বলেন ৩৯ বছর বয়সী ইন্টার মায়ামি ফরোয়ার্ড।

প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কারের গভীর ব্যক্তিগত তাৎপর্য রয়েছে মেসির কাছে। গত আগস্টে তাঁর বাবা হোর্হে মেসি মারা যাওয়ার আগে এই স্বীকৃতি নিয়ে দারুণ রোমাঞ্চিত ছিলেন। ব্যস্ত মৌসুমের মধ্যেও ছেলেকে ওভিয়েদোয় যাওয়ার তাগিদ দিয়েছিলেন হোর্হে।

মেসি সেই স্মৃতি স্মরণ করে বলেন, ‘আমি খুব খুশি। আমার বাবা এই পুরস্কার নিয়ে দারুণ রোমাঞ্চিত ছিলেন। ম্যাচ থাকায় এখানে আসা কঠিন হবে, আমরা তা জানতাম। কিন্তু এই পুরস্কার নিতে আমি যেন এখানে আসি, সে জন্য তিনি খুব জোর করেছিলেন। পুরো ক্যারিয়ারে আমি যা করেছি, এটি তার চেয়ে বেশি কিছু। এই স্বীকৃতিতে তিনি খুব খুশি হয়েছিলেন, তাই আমি নিশ্চিত যে তিনিও এটি উপভোগ করছেন।’

বাবার সঙ্গে মেসির সম্পর্ক অনেক আবেগের। অসুস্থতার পর গত ৮ আগস্ট ৬৮ বছর বয়সে মারা যান তাঁর বাবা। বাবার সঙ্গে গভীর বন্ধন নিয়ে আটবার ব্যালন ডি’অরজয়ী কিংবদন্তি বলেন, ‘আমি তাঁর সঙ্গে সব সময় কথা বলতাম।’ মেসি জানিয়েছেন, ম্যাচ এবং নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে বাবার সঙ্গে কথাটা তাঁর জীবনে অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল।

যেমন একসময় অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল বার্সার জার্সি পরে মাঠে নামাও। ২০০০ সালে কাতালান ক্লাবটির বয়সভিত্তিক দলে যোগ দেওয়ার ২১ বছর পর স্পেন ছাড়েন মেসি। মাঝের এই সময়ে বার্সার হয়ে প্রায় এমন কিছু নেই যে জেতেননি। সেই সময়টা কত উপভোগ্য ছিল, তা নিয়ে মেসি বলেন, ‘সবকিছু জেতার সৌভাগ্য হয়েছিল আমাদের এবং যেভাবে সেটা করেছি। খেলা, জয় ও গুরুত্বপূর্ণ অর্জনগুলো উপভোগের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেছি রোজকার অভিজ্ঞতা ও অনুশীলন। আমাদের সময়টা দারুণ কেটেছে।’

যে ক্লাবে সর্বকালের অন্যতম সেরা হিসেবে বেড়ে উঠেছেন, সেই বার্সা মেসির জীবনে ঠিক কতখানি? শুনুন কিংবদন্তির মুখেই, ‘অল্প কথায় বলা কঠিন। আমার জীবনের ক্লাব।’ বার্সেলোনায় মেসির তিন সন্তানের জন্ম এবং জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত তিনি এই শহরে কাটিয়েছেন। তাই আজও এই শহর ও ক্লাবের প্রতি মনে মনে ‘বিশেষ এক টান’ অনুভব করেন মেসি।

চলতি মাসেই আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ ম্যাচটি খেলেছেন মেসি। ক্লাব ফুটবলে খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে কত দিন খেলে যাবেন, সেটা প্রশ্ন। মেসির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, অবসর নেওয়ার পর মানুষ তাঁকে কীভাবে স্মরণে রাখবে বলে তিনি আশা করেন। তাঁর উত্তর, ‘একজন গ্রেট অ্যাথলেট হিসেবে, যে সব সময় লক্ষ্য ও স্বপ্ন পূরণে চেষ্টা করেছে। কখনো আমি চাওয়া অনুযায়ী অর্জনে সফল হয়েছি, আবার কখনো হইনি। কিন্তু সামনে যা এসেছে, তার প্রতিটিতে জয়ী হতে আমি কখনো চেষ্টা থামাইনি।’

মেসি মনে করেন, সেরেনা উইলিয়ামস, রাফায়েল নাদাল, মাইকেল শুমাখারের মতো কিংবদন্তিরা অতীতে এই পুরস্কার জেতায় তাঁদের তালিকায় নিজের নাম যোগ করতে পারাটা সম্মানের ব্যাপার।

প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কারের আয়োজন করে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ফাউন্ডেশন। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্পেনের রাজা ও রানি। ওভিয়েদোর তেত্রো কাম্পামোয়র থিয়েটারে প্রতিবছর অনুষ্ঠানটি হয়। পুরস্কারের সঙ্গে রয়েছে জোয়ান মিরোর নকশা করা একটি ভাস্কর্য, একটি সনদ, একটি প্রতীকী পদক এবং ৫০ হাজার ইউরো। স্পেনের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী, বর্তমানে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস লিওনর এই পুরস্কার প্রদান করেন। মোট আটটি ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।


উত্তরের চোখ

সম্পাদক: বাদশাহ ওসমানী 
প্রকাশক: মো: জসিম উদ্দিন

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত উত্তরের চোখ