চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর জাহিদুল আলম ওমানে ছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টে ছুটিতে দেশে আসেন তিনি। ৪ সেপ্টেম্বর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তাঁর হাত–পা ভেঙে যায়। মুখের চোয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, দাঁত ভাঙে তিনটি। মাথায়ও গুরুতর আঘাত পান। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, এরপর চট্টগ্রাম এভারকেয়ার হাসপাতালে দীর্ঘ চিকিৎসা নেন। জীবন বাঁচানো সম্ভব হলেও পঙ্গুত্ব এড়াতে পারেননি তিনি।
২৮ বছর বয়সী জাহিদুল এখন ভারতের বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। গত মঙ্গলবার বেঙ্গালুরু থেকে ফোনে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, জীবনের যত সঞ্চয় ছিল, সব শেষ। এরই মধ্যে চিকিৎসার পেছনে ৬৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। করতে হয়েছে ধারদেনা। বিদেশে আর যাওয়া হয়নি, হবেও না মনে হয়। তিনি জানালেন, তাঁর পায়ে আটবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এর মধ্যে পচনও ধরেছে কয়েকবার।
জাহিদুলের মতো সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের বেশির ভাগেরই দুর্বিষহ জীবন পার করতে হচ্ছে। আহতদের বড় অংশই তরুণ, যুবক ও কর্মক্ষম ব্যক্তি। এর প্রভাব পরিবারেও পড়ছে।
সড়ক দুর্ঘটনার আরেকজন ভুক্তভোগী নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের মো. সজীব। তিনি ২০২১ সালে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পড়েন। বাঁ পা ভেঙে যায়, শরীরের নানা স্থানে আঘাত পান তিনি। প্রায় ৩৩ দিন ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। অস্ত্রোপচার করা হয়। এখনো হাঁটাচলা স্বাভাবিক হয়নি। সজীব মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, দুর্ঘটনার আগে তিনি কারখানায় চাকরি করতেন। দুর্ঘটনার পর প্রায় তিন বছর কাজ করতে পারেননি। এখন একটি চায়ের দোকান দিয়ে কোনোরকমে দিন পার করছেন।
২০২৩–২৪ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির (এনসিডিসি) উদ্যোগে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) একটি জরিপ করে। এ থেকে জানা যায়, সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে ৩০ লাখের বেশি মানুষ আহত হন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩৮ হাজার মানুষ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেন কিংবা প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন। সেই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ১০৪ জন পঙ্গু বা প্রতিবন্ধী হচ্ছেন। আর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান দিনে গড়ে ৬৬ জন।
‘জাতীয় স্বাস্থ্য ও আঘাত’ শীর্ষক জরিপটির জন্য ২০২৩ সালের মে মাসে তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়ে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত চলে। জরিপের সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। দেশের ৬৪টি জেলায় পরিচালিত জরিপে ৪ লাখ ৪২ হাজার ৯৯৮ জনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
জরিপে এসেছে, দেশে সব ধরনের আঘাতজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ সড়ক দুর্ঘটনা। আর প্রাণঘাতী নয়, এমন আঘাতের কারণগুলোর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
এ বাস্তবতায় আজ ২২ অক্টোবর দেশে পালিত হতে যাচ্ছে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। দিবসের প্রতিপাদ্য ‘নিরাপদ সড়ক, সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ এবার দিবসটি উপলক্ষে মূল আয়োজন আজ হচ্ছে না। দুর্গাপূজার ছুটির কারণে ২৮ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হবে।
জাতীয় স্বাস্থ্য ও আঘাত জরিপ অনুসারে, দেশে প্রতিবছর বিভিন্ন কারণে প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ ৭৪ হাজার মানুষ প্রাণঘাতী নয়, এমন আঘাতের শিকার হন। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন ৩০ লাখ ৩১ হাজার ২৮ জন। অর্থাৎ প্রাণঘাতী নয়, এমন আঘাতের প্রায় ১৮ দশমিক ৩ শতাংশের কারণ সড়ক দুর্ঘটনা। প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে বছরে প্রায় ১ হাজার ৮৩৫ জন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন।
জরিপে স্থায়ী পঙ্গুত্ববরণ কিংবা প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন—এমন দুর্ঘটনার দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনার সবচেয়ে গুরুতর পরিণতিগুলোর একটি স্থায়ী পঙ্গুত্ব বা প্রতিবন্ধী হয়ে পড়া। জরিপের হিসাবে, দেশে প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের আঘাতের কারণে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৯ জন স্থায়ীভাবে পঙ্গু বা প্রতিবন্ধী হন।
এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার কারণে বছরে ৩৮ হাজার ২৮ জন স্থায়ী পঙ্গুত্ববরণ করেন বা প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন। দৈনিক হিসাবে যা ১০৪ জন। দেশে আঘাতজনিত স্থায়ী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রায় ২৭ দশমিক ৪ শতাংশের কারণ সড়ক দুর্ঘটনা। জরিপে স্থায়ী প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি, হাতের কার্যক্ষমতা, চলাফেরা কিংবা মানসিক কার্যক্ষমতা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
২০২১ সালে রাজশাহীতে বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে একটি মাইক্রোবাসে আগুন ধরে ১৭ জন মারা যান। মাইক্রোবাসের যাত্রীরা সবাই একই পরিবারের সদস্য ছিলেন। বাবা–মা ও আত্মীয়দের হারিয়ে একমাত্র বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি পাভেল মিয়া। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৭ বছর। রংপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজে সবে ভর্তি হয়েছিলেন। দুর্ঘটনার পর পাভেল তিন মাস আইসিইউতে ছিলেন। দুটি দাঁত ও ডান হাতের বুড়ো আঙুল স্থায়ীভাবে হারিয়েছে। কথা বললে এখনো জড়িয়ে যায়। পড়াশোনাও আর হয়নি। পাভেল প্রথম আলোকে বলেন, তিনি কোনো কাজ করতে পারেন না। একটা সরকারি চাকরি পেলে জীবন চালানো যেত।
জরিপ অনুযায়ী, দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিবছর আনুমানিক ২৪ হাজার ২৩৩ জন প্রাণ হারান। দৈনিক গড়ে ৬৬ জন। প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার ১৪ দশমিক ৬৭। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের ৮৪ দশমিক ৬ শতাংশ পুরুষ এবং ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ নারী।
জরিপে গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহরাঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার বেশি পাওয়া গেছে। শহরে প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে মৃত্যুর হার ১৬ দশমিক ৫৬। গ্রামাঞ্চলে এই হার ১৩ দশমিক ৮১।
সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশের উপনির্বাহী পরিচালক সেলিম মাহমুদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু, মারাত্মক আহত ও নিহতের বেশির ভাগই বয়সে তরুণ। নিম্ন আয়ের মানুষ এবং পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিই বেশি। পঙ্গু হয়ে গেলে তাঁরা পরিবার ও রাষ্ট্রের জন্য বোঝায় পরিণত হন। দুর্ঘটনা কমাতে আইন প্রণয়ন, প্রয়োগ ও সচেতনতায় জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
বিভিন্ন গবেষণা ও সরকারি প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার যেসব কারণ উঠে এসেছে, সেগুলো হলো বেপরোয়া ও অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, অসতর্কতা, বিপজ্জনকভাবে ওভারটেকিং, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, চালকের অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, ক্লান্তি, ঘুম ঘুম অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং গাড়ি চালানোর সময় মুঠোফোন ব্যবহার।
এ ছাড়া ত্রুটিপূর্ণ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ব্রেকের ত্রুটি, অতিরিক্ত যাত্রী ও পণ্য পরিবহন, মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, মোটরসাইকেলের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহার এবং পথচারীদের অসতর্ক চলাচল দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। সড়কের নকশাগত ত্রুটি, বিপজ্জনক বাঁক, অপর্যাপ্ত সড়কবাতি, সাইন-সংকেত ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি, বিভাজক ও নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা না থাকা এবং সড়কের পাশে পর্যাপ্ত সুরক্ষাব্যবস্থার অভাবও দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও গুরুতর আহত হওয়ার কারণ। পাশাপাশি হেলমেট, সিটবেল্ট ও শিশুদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার না করা, চালকের নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ও বিশ্রামের অভাব, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, আইন প্রয়োগে শিথিলতা, বিআরটিএর তদারকি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ঘাটতি এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত ও মানসম্মত চিকিৎসা না পাওয়াও প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ায়।
জাতিসংঘ ২০২১ থেকে ২০৩০ সালকে ‘নিরাপদ সড়ক দশক’ ঘোষণা করেছে। এর প্রধান লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও আহত হওয়ার সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমানো। ২০২০ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এ উদ্যোগ গ্রহণ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমন্বয়ে প্রণীত বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনায় নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো, যানবাহনের নিরাপত্তা, গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ, আইন প্রয়োগ এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
গত ২০ ও ২১ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৈঠকে শেখ রবিউল আলম সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার তুলে ধরেন। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনার পর দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানান। ২০২৭ সালের মধ্যে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতিও তুলে ধরেন তিনি।
গতকাল যোগাযোগ করা হলে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলতে পারবে না, এ ব্যাপারে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আর যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। তাঁর আশা, ২০৩০ সালের মধ্যে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনা যাবে। এ ছাড়া ২০২৭ সালের মধ্যে সড়ক নিরাপদ করার জন্য যা যা আইন-বিধি দরকার তা করা হবে। তিনি বলেন, পরিবহন খাত দীর্ঘদিন বিশৃঙ্খল ছিল। রাতারাতি শৃঙ্খলায় আনা কঠিন। কিছুটা সময় দিতে হবে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নেওয়া প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে অবস্থার অনেকটাই পরিবর্তন হবে বলে তিনি মনে করেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সুনির্দিষ্ট যে পরিকল্পনা দরকার, দেশে তা নেই। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দেশের শীর্ষস্থানীয় ফোরাম হচ্ছে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় দেড় বছরে একবার এর বৈঠক হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের এখনো কোনো বৈঠক হয়নি। অথচ ছয় মাসের মধ্যে কাউন্সিলের বৈঠক হওয়ার কথা। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের রোড সেফটি বিভাগ বা সেল আছে। তবে তাদের কার্যক্রম কিছু লিফলেট বিতরণ ও দিবসভিত্তিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ।
সওজের অধীনে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও গুরুতর আহতের সংখ্যা কমানো এবং সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো। প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ১৮ এপ্রিল একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। এর মোট ব্যয় ৪ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা। বাস্তবায়নকাল ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত।
যোগাযোগ করা হলে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ সামছুল হক প্রথম আলোকে বলেন, সরকার এখন পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেয়নি। শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাজ হবে না। ব্যতিক্রমী, বিজ্ঞানধর্মী টেকসই পরিকল্পনা ছাড়া যত কথাই বলা হোক সেটা কাজ করবে না। সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে হলে সমস্যার গোড়ায় হাত দিতে হবে মন্তব্য করে সামছুল হক বলেন, যানবাহনের ফিটনেস ও রুটপারমিট, চালকের লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া যথাযথ করতে হবে। মাঠ পর্যায়ে তদারকি করতে হবে। এটার জন্য তথ্য–উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পরিকল্পনা করতে হবে।
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর জাহিদুল আলম ওমানে ছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টে ছুটিতে দেশে আসেন তিনি। ৪ সেপ্টেম্বর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তাঁর হাত–পা ভেঙে যায়। মুখের চোয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, দাঁত ভাঙে তিনটি। মাথায়ও গুরুতর আঘাত পান। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, এরপর চট্টগ্রাম এভারকেয়ার হাসপাতালে দীর্ঘ চিকিৎসা নেন। জীবন বাঁচানো সম্ভব হলেও পঙ্গুত্ব এড়াতে পারেননি তিনি।
২৮ বছর বয়সী জাহিদুল এখন ভারতের বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। গত মঙ্গলবার বেঙ্গালুরু থেকে ফোনে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, জীবনের যত সঞ্চয় ছিল, সব শেষ। এরই মধ্যে চিকিৎসার পেছনে ৬৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। করতে হয়েছে ধারদেনা। বিদেশে আর যাওয়া হয়নি, হবেও না মনে হয়। তিনি জানালেন, তাঁর পায়ে আটবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। এর মধ্যে পচনও ধরেছে কয়েকবার।
জাহিদুলের মতো সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের বেশির ভাগেরই দুর্বিষহ জীবন পার করতে হচ্ছে। আহতদের বড় অংশই তরুণ, যুবক ও কর্মক্ষম ব্যক্তি। এর প্রভাব পরিবারেও পড়ছে।
সড়ক দুর্ঘটনার আরেকজন ভুক্তভোগী নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের মো. সজীব। তিনি ২০২১ সালে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পড়েন। বাঁ পা ভেঙে যায়, শরীরের নানা স্থানে আঘাত পান তিনি। প্রায় ৩৩ দিন ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। অস্ত্রোপচার করা হয়। এখনো হাঁটাচলা স্বাভাবিক হয়নি। সজীব মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, দুর্ঘটনার আগে তিনি কারখানায় চাকরি করতেন। দুর্ঘটনার পর প্রায় তিন বছর কাজ করতে পারেননি। এখন একটি চায়ের দোকান দিয়ে কোনোরকমে দিন পার করছেন।
২০২৩–২৪ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির (এনসিডিসি) উদ্যোগে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) একটি জরিপ করে। এ থেকে জানা যায়, সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে ৩০ লাখের বেশি মানুষ আহত হন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩৮ হাজার মানুষ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেন কিংবা প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন। সেই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ১০৪ জন পঙ্গু বা প্রতিবন্ধী হচ্ছেন। আর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান দিনে গড়ে ৬৬ জন।
‘জাতীয় স্বাস্থ্য ও আঘাত’ শীর্ষক জরিপটির জন্য ২০২৩ সালের মে মাসে তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়ে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত চলে। জরিপের সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। দেশের ৬৪টি জেলায় পরিচালিত জরিপে ৪ লাখ ৪২ হাজার ৯৯৮ জনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
জরিপে এসেছে, দেশে সব ধরনের আঘাতজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ সড়ক দুর্ঘটনা। আর প্রাণঘাতী নয়, এমন আঘাতের কারণগুলোর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
এ বাস্তবতায় আজ ২২ অক্টোবর দেশে পালিত হতে যাচ্ছে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। দিবসের প্রতিপাদ্য ‘নিরাপদ সড়ক, সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ এবার দিবসটি উপলক্ষে মূল আয়োজন আজ হচ্ছে না। দুর্গাপূজার ছুটির কারণে ২৮ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হবে।
জাতীয় স্বাস্থ্য ও আঘাত জরিপ অনুসারে, দেশে প্রতিবছর বিভিন্ন কারণে প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ ৭৪ হাজার মানুষ প্রাণঘাতী নয়, এমন আঘাতের শিকার হন। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন ৩০ লাখ ৩১ হাজার ২৮ জন। অর্থাৎ প্রাণঘাতী নয়, এমন আঘাতের প্রায় ১৮ দশমিক ৩ শতাংশের কারণ সড়ক দুর্ঘটনা। প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে বছরে প্রায় ১ হাজার ৮৩৫ জন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন।
জরিপে স্থায়ী পঙ্গুত্ববরণ কিংবা প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন—এমন দুর্ঘটনার দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনার সবচেয়ে গুরুতর পরিণতিগুলোর একটি স্থায়ী পঙ্গুত্ব বা প্রতিবন্ধী হয়ে পড়া। জরিপের হিসাবে, দেশে প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের আঘাতের কারণে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৯ জন স্থায়ীভাবে পঙ্গু বা প্রতিবন্ধী হন।
এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার কারণে বছরে ৩৮ হাজার ২৮ জন স্থায়ী পঙ্গুত্ববরণ করেন বা প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন। দৈনিক হিসাবে যা ১০৪ জন। দেশে আঘাতজনিত স্থায়ী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রায় ২৭ দশমিক ৪ শতাংশের কারণ সড়ক দুর্ঘটনা। জরিপে স্থায়ী প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি, হাতের কার্যক্ষমতা, চলাফেরা কিংবা মানসিক কার্যক্ষমতা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
২০২১ সালে রাজশাহীতে বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে একটি মাইক্রোবাসে আগুন ধরে ১৭ জন মারা যান। মাইক্রোবাসের যাত্রীরা সবাই একই পরিবারের সদস্য ছিলেন। বাবা–মা ও আত্মীয়দের হারিয়ে একমাত্র বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি পাভেল মিয়া। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৭ বছর। রংপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজে সবে ভর্তি হয়েছিলেন। দুর্ঘটনার পর পাভেল তিন মাস আইসিইউতে ছিলেন। দুটি দাঁত ও ডান হাতের বুড়ো আঙুল স্থায়ীভাবে হারিয়েছে। কথা বললে এখনো জড়িয়ে যায়। পড়াশোনাও আর হয়নি। পাভেল প্রথম আলোকে বলেন, তিনি কোনো কাজ করতে পারেন না। একটা সরকারি চাকরি পেলে জীবন চালানো যেত।
জরিপ অনুযায়ী, দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিবছর আনুমানিক ২৪ হাজার ২৩৩ জন প্রাণ হারান। দৈনিক গড়ে ৬৬ জন। প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার ১৪ দশমিক ৬৭। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের ৮৪ দশমিক ৬ শতাংশ পুরুষ এবং ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ নারী।
জরিপে গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহরাঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার বেশি পাওয়া গেছে। শহরে প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে মৃত্যুর হার ১৬ দশমিক ৫৬। গ্রামাঞ্চলে এই হার ১৩ দশমিক ৮১।
সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশের উপনির্বাহী পরিচালক সেলিম মাহমুদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু, মারাত্মক আহত ও নিহতের বেশির ভাগই বয়সে তরুণ। নিম্ন আয়ের মানুষ এবং পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিই বেশি। পঙ্গু হয়ে গেলে তাঁরা পরিবার ও রাষ্ট্রের জন্য বোঝায় পরিণত হন। দুর্ঘটনা কমাতে আইন প্রণয়ন, প্রয়োগ ও সচেতনতায় জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
বিভিন্ন গবেষণা ও সরকারি প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার যেসব কারণ উঠে এসেছে, সেগুলো হলো বেপরোয়া ও অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, অসতর্কতা, বিপজ্জনকভাবে ওভারটেকিং, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, চালকের অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, ক্লান্তি, ঘুম ঘুম অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং গাড়ি চালানোর সময় মুঠোফোন ব্যবহার।
এ ছাড়া ত্রুটিপূর্ণ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ব্রেকের ত্রুটি, অতিরিক্ত যাত্রী ও পণ্য পরিবহন, মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, মোটরসাইকেলের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহার এবং পথচারীদের অসতর্ক চলাচল দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। সড়কের নকশাগত ত্রুটি, বিপজ্জনক বাঁক, অপর্যাপ্ত সড়কবাতি, সাইন-সংকেত ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি, বিভাজক ও নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা না থাকা এবং সড়কের পাশে পর্যাপ্ত সুরক্ষাব্যবস্থার অভাবও দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও গুরুতর আহত হওয়ার কারণ। পাশাপাশি হেলমেট, সিটবেল্ট ও শিশুদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার না করা, চালকের নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ও বিশ্রামের অভাব, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, আইন প্রয়োগে শিথিলতা, বিআরটিএর তদারকি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ঘাটতি এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত ও মানসম্মত চিকিৎসা না পাওয়াও প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ায়।
জাতিসংঘ ২০২১ থেকে ২০৩০ সালকে ‘নিরাপদ সড়ক দশক’ ঘোষণা করেছে। এর প্রধান লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও আহত হওয়ার সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমানো। ২০২০ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এ উদ্যোগ গ্রহণ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমন্বয়ে প্রণীত বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনায় নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো, যানবাহনের নিরাপত্তা, গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ, আইন প্রয়োগ এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
গত ২০ ও ২১ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৈঠকে শেখ রবিউল আলম সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার তুলে ধরেন। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনার পর দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানান। ২০২৭ সালের মধ্যে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতিও তুলে ধরেন তিনি।
গতকাল যোগাযোগ করা হলে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলতে পারবে না, এ ব্যাপারে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আর যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। তাঁর আশা, ২০৩০ সালের মধ্যে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনা যাবে। এ ছাড়া ২০২৭ সালের মধ্যে সড়ক নিরাপদ করার জন্য যা যা আইন-বিধি দরকার তা করা হবে। তিনি বলেন, পরিবহন খাত দীর্ঘদিন বিশৃঙ্খল ছিল। রাতারাতি শৃঙ্খলায় আনা কঠিন। কিছুটা সময় দিতে হবে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নেওয়া প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে অবস্থার অনেকটাই পরিবর্তন হবে বলে তিনি মনে করেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সুনির্দিষ্ট যে পরিকল্পনা দরকার, দেশে তা নেই। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দেশের শীর্ষস্থানীয় ফোরাম হচ্ছে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় দেড় বছরে একবার এর বৈঠক হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের এখনো কোনো বৈঠক হয়নি। অথচ ছয় মাসের মধ্যে কাউন্সিলের বৈঠক হওয়ার কথা। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের রোড সেফটি বিভাগ বা সেল আছে। তবে তাদের কার্যক্রম কিছু লিফলেট বিতরণ ও দিবসভিত্তিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ।
সওজের অধীনে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও গুরুতর আহতের সংখ্যা কমানো এবং সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো। প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ১৮ এপ্রিল একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। এর মোট ব্যয় ৪ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা। বাস্তবায়নকাল ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত।
যোগাযোগ করা হলে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ সামছুল হক প্রথম আলোকে বলেন, সরকার এখন পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেয়নি। শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাজ হবে না। ব্যতিক্রমী, বিজ্ঞানধর্মী টেকসই পরিকল্পনা ছাড়া যত কথাই বলা হোক সেটা কাজ করবে না। সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে হলে সমস্যার গোড়ায় হাত দিতে হবে মন্তব্য করে সামছুল হক বলেন, যানবাহনের ফিটনেস ও রুটপারমিট, চালকের লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া যথাযথ করতে হবে। মাঠ পর্যায়ে তদারকি করতে হবে। এটার জন্য তথ্য–উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পরিকল্পনা করতে হবে।
মতামত