রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
উত্তরের চোখ

মূল পাতা

সারাদেশ

এক পাশে আজান, অন্য পাশে উলুধ্বনি—

মাত্র ১০ ফুট দূরত্বে মসজিদ-মন্দির, সম্প্রীতির অনন্য নজির বাহুবলে

মাত্র ১০ ফুট দূরত্বে মসজিদ-মন্দির, সম্প্রীতির অনন্য নজির বাহুবলে
বামে মসজিদ ডানে মন্দির

এক পাশে মসজিদ, অন্য পাশে মন্দির। মাঝখানে দূরত্ব মাত্র ১০ ফুট। একদিকে ভেসে আসে আজানের ধ্বনি, অন্যদিকে মন্দিরে চলে পূজার্চনা। দুটি উপাসনালয়ের দরজা প্রায় মুখোমুখি। অথচ নেই কোনো বিরোধ, নেই সাম্প্রদায়িক বিভেদ। বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও ভালোবাসার বন্ধনে দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি চলছে দুই ধর্মের মানুষের ধর্মীয় কার্যক্রম। পূজা উপলক্ষে রং করা হয় মসজিদের বাউন্ডারি দেয়াল, আবার ঈদে রং করা হয় মন্দিরের বাউন্ডারি দেয়াল। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের এমন অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া বাজার এলাকার কামাইছড়া চা বাগান জামে মসজিদ ও দুর্গামন্দির।

ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কের পাশের এই এলাকায় ১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দুর্গামন্দির। এর প্রায় ১৯ বছর পর ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কামাইছড়া চা বাগান জামে মসজিদ। বর্তমানে মাত্র ১০ ফুট দূরত্বে পাশাপাশি অবস্থিত এ দুটি উপাসনালয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছেন মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। পারস্পরিক সমঝোতা, সহনশীলতা ও শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে তাঁরা গড়ে তুলেছেন সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মন্দির প্রতিষ্ঠার পরবর্তী সময়ে স্থানীয় মুসল্লি, ব্যবসায়ী ও চা বাগানের মুসলমানদের উদ্যোগে মন্দিরের পাশে নির্মাণ করা হয় মসজিদ। সময়ের পরিক্রমায় দুই উপাসনালয়ের কার্যক্রম বিস্তৃত হলেও দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অটুট রয়েছে। ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের সময় যাতে একে অপরের উপাসনায় বিঘ্ন না ঘটে, সে জন্য দুই পক্ষের মধ্যে রয়েছে সমঝোতা। দুর্গাপূজার সময় নামাজ ও আজানের সময় হলে পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যরা তাঁদের ধর্মীয় কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখেন। নামাজ শেষ হলে আবারও শুরু হয় পূজার কার্যক্রম। একইভাবে দুই পক্ষই একে অপরের ধর্মীয় অনুভূতি ও উপাসনার প্রতি সম্মান দেখিয়ে চলেন।

শুধু ধর্মীয় কার্যক্রম সমন্বয় নয়, স্থাপনার সৌন্দর্য রক্ষায়ও রয়েছে পারস্পরিক সহযোগিতার নজির। পূজা উপলক্ষে মসজিদের বাউন্ডারি দেয়ালে রং করে দেওয়া হয়। আবার ঈদ উপলক্ষে রং করা হয় মন্দিরের বাউন্ডারি দেয়ালও। এ যেন ধর্মীয় সম্প্রীতির পাশাপাশি সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

কামাইছড়া চা বাগান জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুর রহিম বলেন, ‘আমাদের কামাইছড়া চা বাগান জামে মসজিদ ও দুর্গামন্দির একেবারে পাশাপাশি অবস্থিত। দুটির দরজাও প্রায় বরাবর। প্রায় ৫০ বছর ধরে আমরা পূজা কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় ও সমন্বয়ের মাধ্যমে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। পূজার সময় নামাজের সময় হলে তাঁরা তাঁদের অনুষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখেন। নামাজ শেষ হলে আবার পূজা শুরু করেন। আমাদের মধ্যে কোনো দিন কোনো বিরোধ সৃষ্টি হয়নি। কামাইছড়ার মসজিদ ও মন্দিরের এই সম্প্রীতি সারাদেশের মানুষের কাছে তুলে ধরা উচিত।’

কামাইছড়া দুর্গামন্দিরের পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি গোপাল গোয়ালা বলেন, ‘আমরা হিন্দু-মুসলিম সব সময় মিলেমিশে থাকি। আমাদের এখানে কোনো দিন কোনো সমস্যা হয়নি। একে অপরের ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে সম্মান করি এবং সহযোগিতা করি। আশা করি, ভবিষ্যতেও এই সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য অটুট থাকবে।’ তিনি জানান, পূজা উপলক্ষে মসজিদের বাউন্ডারি দেয়াল রং করে দেওয়া হয়। একইভাবে ঈদের সময় মন্দিরের বাউন্ডারি দেয়ালও রং করে দেওয়া হয়। পারস্পরিক সহযোগিতার এই চর্চা দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে আন্তরিকতার সম্পর্ক আরও গভীর করেছে।

বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল রায় বলেন, ‘কামাইছড়ায় দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে মসজিদ ও মন্দির পাশাপাশি অবস্থান করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির স্থাপন করেছে। একদিকে মুসলমানরা নামাজ আদায় করছেন, ঠিক উল্টো পাশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা তাঁদের পূজা করছেন। আমার মনে হয়, এটি আবহমানকাল থেকে চলে আসা মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। আমি আশা করি, কামাইছড়ার এই দৃষ্টান্ত বাহুবল তথা সারাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আদর্শ হিসেবে গণ্য হবে।’

কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা এএসআই মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের পুলিশ ক্যাম্পের পাশেই মসজিদ ও মন্দির অবস্থিত। এখানকার মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি খুবই ভালো। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় কার্যক্রম পালন করেন। আমরাও এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।’

স্থানীয়দের মতে, কামাইছড়ার এই সম্প্রীতি কেবল পাশাপাশি দুটি উপাসনালয়ের অবস্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও সহযোগিতার দীর্ঘদিনের চর্চার প্রতিফলন। ধর্মীয় উৎসবের সময় একে অপরের সুবিধা-অসুবিধার প্রতি খেয়াল রাখা, উপাসনার সময়সূচি সমন্বয় করা এবং স্থাপনার সৌন্দর্য রক্ষায় সহযোগিতা করার মধ্য দিয়ে তাঁরা সম্প্রীতির বন্ধনকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন।

ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হলেও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান যে সম্ভব, কামাইছড়ার এই মসজিদ ও মন্দির তারই বাস্তব উদাহরণ। মাত্র ১০ ফুট দূরত্বে অবস্থিত দুটি উপাসনালয় যেন নীরবে বহন করছে সম্প্রীতি, মানবিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বার্তা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এই সম্প্রীতির ধারা অব্যাহত থাকবে এবং কামাইছড়ার দৃষ্টান্ত দেশের অন্যান্য এলাকার মানুষের জন্যও অনুকরণীয় হয়ে উঠবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

মাত্র ১০ ফুট দূরত্বে মসজিদ-মন্দির, সম্প্রীতির অনন্য নজির বাহুবলে
0:00 0:00
1.0x
উত্তরের চোখ

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


মাত্র ১০ ফুট দূরত্বে মসজিদ-মন্দির, সম্প্রীতির অনন্য নজির বাহুবলে

প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image


এক পাশে মসজিদ, অন্য পাশে মন্দির। মাঝখানে দূরত্ব মাত্র ১০ ফুট। একদিকে ভেসে আসে আজানের ধ্বনি, অন্যদিকে মন্দিরে চলে পূজার্চনা। দুটি উপাসনালয়ের দরজা প্রায় মুখোমুখি। অথচ নেই কোনো বিরোধ, নেই সাম্প্রদায়িক বিভেদ। বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও ভালোবাসার বন্ধনে দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি চলছে দুই ধর্মের মানুষের ধর্মীয় কার্যক্রম। পূজা উপলক্ষে রং করা হয় মসজিদের বাউন্ডারি দেয়াল, আবার ঈদে রং করা হয় মন্দিরের বাউন্ডারি দেয়াল। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের এমন অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া বাজার এলাকার কামাইছড়া চা বাগান জামে মসজিদ ও দুর্গামন্দির।

ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কের পাশের এই এলাকায় ১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দুর্গামন্দির। এর প্রায় ১৯ বছর পর ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কামাইছড়া চা বাগান জামে মসজিদ। বর্তমানে মাত্র ১০ ফুট দূরত্বে পাশাপাশি অবস্থিত এ দুটি উপাসনালয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে আসছেন মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। পারস্পরিক সমঝোতা, সহনশীলতা ও শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে তাঁরা গড়ে তুলেছেন সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মন্দির প্রতিষ্ঠার পরবর্তী সময়ে স্থানীয় মুসল্লি, ব্যবসায়ী ও চা বাগানের মুসলমানদের উদ্যোগে মন্দিরের পাশে নির্মাণ করা হয় মসজিদ। সময়ের পরিক্রমায় দুই উপাসনালয়ের কার্যক্রম বিস্তৃত হলেও দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অটুট রয়েছে। ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের সময় যাতে একে অপরের উপাসনায় বিঘ্ন না ঘটে, সে জন্য দুই পক্ষের মধ্যে রয়েছে সমঝোতা। দুর্গাপূজার সময় নামাজ ও আজানের সময় হলে পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যরা তাঁদের ধর্মীয় কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখেন। নামাজ শেষ হলে আবারও শুরু হয় পূজার কার্যক্রম। একইভাবে দুই পক্ষই একে অপরের ধর্মীয় অনুভূতি ও উপাসনার প্রতি সম্মান দেখিয়ে চলেন।

শুধু ধর্মীয় কার্যক্রম সমন্বয় নয়, স্থাপনার সৌন্দর্য রক্ষায়ও রয়েছে পারস্পরিক সহযোগিতার নজির। পূজা উপলক্ষে মসজিদের বাউন্ডারি দেয়ালে রং করে দেওয়া হয়। আবার ঈদ উপলক্ষে রং করা হয় মন্দিরের বাউন্ডারি দেয়ালও। এ যেন ধর্মীয় সম্প্রীতির পাশাপাশি সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

কামাইছড়া চা বাগান জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুর রহিম বলেন, ‘আমাদের কামাইছড়া চা বাগান জামে মসজিদ ও দুর্গামন্দির একেবারে পাশাপাশি অবস্থিত। দুটির দরজাও প্রায় বরাবর। প্রায় ৫০ বছর ধরে আমরা পূজা কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় ও সমন্বয়ের মাধ্যমে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। পূজার সময় নামাজের সময় হলে তাঁরা তাঁদের অনুষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখেন। নামাজ শেষ হলে আবার পূজা শুরু করেন। আমাদের মধ্যে কোনো দিন কোনো বিরোধ সৃষ্টি হয়নি। কামাইছড়ার মসজিদ ও মন্দিরের এই সম্প্রীতি সারাদেশের মানুষের কাছে তুলে ধরা উচিত।’

কামাইছড়া দুর্গামন্দিরের পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি গোপাল গোয়ালা বলেন, ‘আমরা হিন্দু-মুসলিম সব সময় মিলেমিশে থাকি। আমাদের এখানে কোনো দিন কোনো সমস্যা হয়নি। একে অপরের ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে সম্মান করি এবং সহযোগিতা করি। আশা করি, ভবিষ্যতেও এই সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য অটুট থাকবে।’ তিনি জানান, পূজা উপলক্ষে মসজিদের বাউন্ডারি দেয়াল রং করে দেওয়া হয়। একইভাবে ঈদের সময় মন্দিরের বাউন্ডারি দেয়ালও রং করে দেওয়া হয়। পারস্পরিক সহযোগিতার এই চর্চা দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে আন্তরিকতার সম্পর্ক আরও গভীর করেছে।

বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল রায় বলেন, ‘কামাইছড়ায় দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে মসজিদ ও মন্দির পাশাপাশি অবস্থান করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির স্থাপন করেছে। একদিকে মুসলমানরা নামাজ আদায় করছেন, ঠিক উল্টো পাশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা তাঁদের পূজা করছেন। আমার মনে হয়, এটি আবহমানকাল থেকে চলে আসা মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। আমি আশা করি, কামাইছড়ার এই দৃষ্টান্ত বাহুবল তথা সারাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আদর্শ হিসেবে গণ্য হবে।’

কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা এএসআই মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের পুলিশ ক্যাম্পের পাশেই মসজিদ ও মন্দির অবস্থিত। এখানকার মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি খুবই ভালো। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় কার্যক্রম পালন করেন। আমরাও এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।’

স্থানীয়দের মতে, কামাইছড়ার এই সম্প্রীতি কেবল পাশাপাশি দুটি উপাসনালয়ের অবস্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও সহযোগিতার দীর্ঘদিনের চর্চার প্রতিফলন। ধর্মীয় উৎসবের সময় একে অপরের সুবিধা-অসুবিধার প্রতি খেয়াল রাখা, উপাসনার সময়সূচি সমন্বয় করা এবং স্থাপনার সৌন্দর্য রক্ষায় সহযোগিতা করার মধ্য দিয়ে তাঁরা সম্প্রীতির বন্ধনকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন।

ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হলেও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান যে সম্ভব, কামাইছড়ার এই মসজিদ ও মন্দির তারই বাস্তব উদাহরণ। মাত্র ১০ ফুট দূরত্বে অবস্থিত দুটি উপাসনালয় যেন নীরবে বহন করছে সম্প্রীতি, মানবিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বার্তা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এই সম্প্রীতির ধারা অব্যাহত থাকবে এবং কামাইছড়ার দৃষ্টান্ত দেশের অন্যান্য এলাকার মানুষের জন্যও অনুকরণীয় হয়ে উঠবে।


উত্তরের চোখ

সম্পাদক: বাদশাহ ওসমানী 
প্রকাশক: মো: জসিম উদ্দিন

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত উত্তরের চোখ