দিনাজপুরের খানসামায় স্ত্রী ও নয় বছরের কন্যাসন্তান থাকা সত্ত্বেও গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে আবু সাইদ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি ও তা না পেয়ে প্রথম স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্ত্রীর দায়ের করা মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
অভিযুক্ত আবু সাইদ দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার লাটেরহাট তুলশীপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর প্রথম স্ত্রী আক্তারিনা (৩৪) খানসামা উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের যুগীরঘোপা গ্রামের বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে স্ত্রী আক্তারিনার কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন আবু সাইদ। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে পারিবারিকভাবে একাধিকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে নিরুপায় হয়ে ২০২৪ সালে স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন আক্তারিনা। মামলাটি দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মামলা দায়েরের পর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন আবু সাইদ। পরবর্তী সময়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর তিনি আদালতে হাজির হন। তবে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করে নতুন সংসার শুরু করেন তিনি।
বিষয়টি জানতে পেরে আক্তারিনা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে যান। সেখানে গিয়ে স্বামীকে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে দেখতে পান বলে দাবি করেন তিনি। যদিও দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন আবু সাইদ। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ওই বিয়ের প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীও রয়েছেন। দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর আবু সাইদ সেখান থেকে পালিয়ে যান এবং পরবর্তী সময়ে প্রথম স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী আক্তারিনা বলেন, ‘আমি ও আমার স্বামী দুজনেই দুটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করি। আমাদের নয় বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আমার স্বামী পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাকে মারধর করেন। সংসার টিকিয়ে রাখতে অনেকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। বাধ্য হয়ে আদালতের আশ্রয় নিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মামলার পর আমার স্বামী গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সংসার শুরু করেন। অথচ তিনি বিষয়টি অস্বীকার করছেন। তাঁর দ্বিতীয় বিয়ের প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীও রয়েছে। আমরা সেখানে গিয়ে তাঁকে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে দেখতে পাই। এরপর থেকে তিনি আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন। এত কিছুর পরও আমি আমার স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে সংসার করতে চাই।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবু সাইদের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী আক্তারিনা তাঁর ওপর নির্যাতনের অভিযোগের সুষ্ঠু বিচার এবং নিজের ও সন্তানের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬
দিনাজপুরের খানসামায় স্ত্রী ও নয় বছরের কন্যাসন্তান থাকা সত্ত্বেও গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে আবু সাইদ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি ও তা না পেয়ে প্রথম স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্ত্রীর দায়ের করা মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
অভিযুক্ত আবু সাইদ দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার লাটেরহাট তুলশীপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর প্রথম স্ত্রী আক্তারিনা (৩৪) খানসামা উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের যুগীরঘোপা গ্রামের বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে স্ত্রী আক্তারিনার কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন আবু সাইদ। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে পারিবারিকভাবে একাধিকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে নিরুপায় হয়ে ২০২৪ সালে স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন আক্তারিনা। মামলাটি দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মামলা দায়েরের পর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন আবু সাইদ। পরবর্তী সময়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর তিনি আদালতে হাজির হন। তবে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করে নতুন সংসার শুরু করেন তিনি।
বিষয়টি জানতে পেরে আক্তারিনা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে যান। সেখানে গিয়ে স্বামীকে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে দেখতে পান বলে দাবি করেন তিনি। যদিও দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন আবু সাইদ। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ওই বিয়ের প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীও রয়েছেন। দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর আবু সাইদ সেখান থেকে পালিয়ে যান এবং পরবর্তী সময়ে প্রথম স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী আক্তারিনা বলেন, ‘আমি ও আমার স্বামী দুজনেই দুটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করি। আমাদের নয় বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আমার স্বামী পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাকে মারধর করেন। সংসার টিকিয়ে রাখতে অনেকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। বাধ্য হয়ে আদালতের আশ্রয় নিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মামলার পর আমার স্বামী গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সংসার শুরু করেন। অথচ তিনি বিষয়টি অস্বীকার করছেন। তাঁর দ্বিতীয় বিয়ের প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীও রয়েছে। আমরা সেখানে গিয়ে তাঁকে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে দেখতে পাই। এরপর থেকে তিনি আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন। এত কিছুর পরও আমি আমার স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে সংসার করতে চাই।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবু সাইদের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী আক্তারিনা তাঁর ওপর নির্যাতনের অভিযোগের সুষ্ঠু বিচার এবং নিজের ও সন্তানের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
মতামত