গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সেবাগ্রহয়ীতাদের হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ঘুষ বা অনৈতিক লেনদেন ছাড়া কাঙ্ক্ষিত সরকারি সেবা পেতে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এমনকি কোনো সেবাগ্রহীতা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করলে তাকে দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে দূর-দূরান্ত থেকে পাসপোর্ট সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ অনেকটা বাধ্য হয়েই দালালদের শরণাপন্ন হচ্ছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
সোজা পথে ভোগান্তি, ঘুষের চুক্তিতে মিলছে সহজে সেবা; ভুক্তভোগীদের অভিযোগ:
সরকারি নিয়ম ও নির্দেশনা মেনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পাসপোর্টের আবেদন জমা দিতে গেলে তাদের নানা ধরনের জটিলতা ও ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। দিনের পর দিন অফিসে ঘুরেও অনেকে আবেদন জমা দিতে পারছেন না। অথচ দালালের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের পর অপেক্ষাকৃত দ্রুত আবেদন জমা নেওয়া হচ্ছে এবং ডেলিভারি স্লিপও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গোপালগঞ্জজুড়ে পাসপোর্ট অফিসকে ঘিরে এমন অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভ ও সমালোচনা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সাধারণ মানুষের এমন অভিযোগের পেছনে অনেক সময় তাদের ‘স্বভাবগত অভ্যাস’ কাজ করে এবং ভালো কাজ করলেও কেউ কেউ অপপ্রচার চালান।
ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ, দালালের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার অভিযোগ:- পাসপোর্ট অফিসের সেবা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন উৎপল মৃধা, সিমলা রানী বিশ্বাস, প্রবীর বিশ্বাস রাজু, অবনি বিশ্বাস ও করুনা রানী বিশ্বাস।
তাদের ভাষ্য, “আমরা সমস্ত সঠিক নিয়ম মেনে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে পাসপোর্টের আবেদন জমা দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু দিনের পর দিন ঘুরেও আবেদন জমা দিতে পারিনি। সামান্য কিছু ভুল দেখিয়ে বারবার আবেদনপত্র বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। পরে বাধ্য হয়ে দালালের মাধ্যমে টাকা দিয়ে আবেদন জমা দেওয়ার পরই ডেলিভারি স্লিপ হাতে পেয়েছি।”
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এভাবে প্রথমে নিয়মের নানা ত্রুটি দেখিয়ে আবেদন আটকে দেওয়া হয় এবং পরে দালালের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার পর একই আবেদন গ্রহণ করা হয়। তাদের দাবি, এর পেছনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে দালালদের যোগসাজশ রয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
সিন্ডিকেটের নেপথ্যে অমিত পাল—অভিযোগ:
গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের একটি গোপন সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কথিত অনিয়ম ও দুর্নীতির নেপথ্যে উচ্চমান সহকারী অমিত কুমার পাল ভূমিকা রাখছেন। সূত্রটির অভিযোগ, তাঁর ছত্রছায়ায় দালালদের সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কথিত আর্থিক লেনদেনের একটি নেটওয়ার্ক পরিচালিত হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে উচ্চমান সহকারী অমিত কুমার পালের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
অভিযোগের বিষয়ে যা বললেন সহকারী পরিচালক
গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক নাহিদ নেওয়াজের কাছে অফিসের অনিয়ম, দালাল-সিন্ডিকেট ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। এ সময় তিনি কোনো বিস্তারিত বক্তব্য না দিয়ে বলেন, “উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সাংবাদিকদের কাছে আমি কোনো বক্তব্য প্রদান করতে পারব না।”
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি:
পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালদের কথিত অপতৎপরতার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয়রা। তাদের দাবি, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তবে অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করা হলে প্রতিবেদনটি আরও পূর্ণাঙ্গ হবে।
রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সেবাগ্রহয়ীতাদের হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ঘুষ বা অনৈতিক লেনদেন ছাড়া কাঙ্ক্ষিত সরকারি সেবা পেতে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এমনকি কোনো সেবাগ্রহীতা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করলে তাকে দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে দূর-দূরান্ত থেকে পাসপোর্ট সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ অনেকটা বাধ্য হয়েই দালালদের শরণাপন্ন হচ্ছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
সোজা পথে ভোগান্তি, ঘুষের চুক্তিতে মিলছে সহজে সেবা; ভুক্তভোগীদের অভিযোগ:
সরকারি নিয়ম ও নির্দেশনা মেনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পাসপোর্টের আবেদন জমা দিতে গেলে তাদের নানা ধরনের জটিলতা ও ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। দিনের পর দিন অফিসে ঘুরেও অনেকে আবেদন জমা দিতে পারছেন না। অথচ দালালের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের পর অপেক্ষাকৃত দ্রুত আবেদন জমা নেওয়া হচ্ছে এবং ডেলিভারি স্লিপও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গোপালগঞ্জজুড়ে পাসপোর্ট অফিসকে ঘিরে এমন অভিযোগ নিয়ে ক্ষোভ ও সমালোচনা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সাধারণ মানুষের এমন অভিযোগের পেছনে অনেক সময় তাদের ‘স্বভাবগত অভ্যাস’ কাজ করে এবং ভালো কাজ করলেও কেউ কেউ অপপ্রচার চালান।
ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ, দালালের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার অভিযোগ:- পাসপোর্ট অফিসের সেবা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন উৎপল মৃধা, সিমলা রানী বিশ্বাস, প্রবীর বিশ্বাস রাজু, অবনি বিশ্বাস ও করুনা রানী বিশ্বাস।
তাদের ভাষ্য, “আমরা সমস্ত সঠিক নিয়ম মেনে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে পাসপোর্টের আবেদন জমা দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু দিনের পর দিন ঘুরেও আবেদন জমা দিতে পারিনি। সামান্য কিছু ভুল দেখিয়ে বারবার আবেদনপত্র বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। পরে বাধ্য হয়ে দালালের মাধ্যমে টাকা দিয়ে আবেদন জমা দেওয়ার পরই ডেলিভারি স্লিপ হাতে পেয়েছি।”
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এভাবে প্রথমে নিয়মের নানা ত্রুটি দেখিয়ে আবেদন আটকে দেওয়া হয় এবং পরে দালালের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার পর একই আবেদন গ্রহণ করা হয়। তাদের দাবি, এর পেছনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে দালালদের যোগসাজশ রয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
সিন্ডিকেটের নেপথ্যে অমিত পাল—অভিযোগ:
গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের একটি গোপন সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কথিত অনিয়ম ও দুর্নীতির নেপথ্যে উচ্চমান সহকারী অমিত কুমার পাল ভূমিকা রাখছেন। সূত্রটির অভিযোগ, তাঁর ছত্রছায়ায় দালালদের সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কথিত আর্থিক লেনদেনের একটি নেটওয়ার্ক পরিচালিত হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে উচ্চমান সহকারী অমিত কুমার পালের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
অভিযোগের বিষয়ে যা বললেন সহকারী পরিচালক
গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক নাহিদ নেওয়াজের কাছে অফিসের অনিয়ম, দালাল-সিন্ডিকেট ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। এ সময় তিনি কোনো বিস্তারিত বক্তব্য না দিয়ে বলেন, “উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সাংবাদিকদের কাছে আমি কোনো বক্তব্য প্রদান করতে পারব না।”
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি:
পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালদের কথিত অপতৎপরতার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয়রা। তাদের দাবি, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তবে অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করা হলে প্রতিবেদনটি আরও পূর্ণাঙ্গ হবে।
মতামত