বাংলাদেশে ডিজিটাল বিপ্লবের ফলে মানুষের জীবনযাত্রা বদলে গেছে ব্যাপকভাবে। আজ গ্রামের অজপাড়াগাঁয়ের মানুষও স্মার্টফোন হাতে ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। কিন্তু এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মাঝেই নিঃশব্দে জন্ম নিচ্ছে এক ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি—অনলাইন জুয়া।
একসময় জুয়া ছিল শহরের অন্ধকার গলিতে বা নির্দিষ্ট জায়গায় সীমাবদ্ধ। এখন তা ছড়িয়ে পড়েছে ঘরে ঘরে, মোবাইলের স্ক্রিনে, মানুষের পকেটের ভেতরেই।
প্রথমে এসব অ্যাপ নিজেদের প্রচারণায় ব্যবহার করে ‘গেম খেলা,স্পোর্টস বেটিং, ‘ফান চ্যালেঞ্জ,অনলাইন আয়’ ইত্যাদি আকর্ষণীয় শব্দ। তরুণরা ভাবে, “একটু খেলে দেখি, ক্ষতি কী! কিন্তু এই নিরীহ কৌতূহলই হয়ে ওঠে সর্বনাশের সূচনা। প্রথমদিকে তারা কিছু টাকা জিতে সাময়িক আনন্দ পায়, কিন্তু পরে হেরে যায় সবকিছু—অর্থ, আত্মসম্মান, পারিবারিক বন্ধন, এমনকি মানসিক শান্তিও।
দেশে এখন বিভিন্ন বিদেশি ওয়েবসাইট ও অ্যাপের মাধ্যমে চলছে জুয়ার রমরমা ব্যবসা। এসব অ্যাপ যেমন Bet365, 1xBet, Parimatch, কিংবা “Mostbet”—সবই বিদেশে নিবন্ধিত। কিন্তু বাংলাদেশি ব্যবহারকারীরা VPN, বিকাশ, নগদ কিংবা আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করে সেখানে অংশ নিচ্ছে।
প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতবদল হচ্ছে এই ভার্চুয়াল জুয়ার বাজারে।
প্রশ্ন হলো—এই টাকা কোথায় যাচ্ছে? উত্তর হলো: দেশের বাইরে। অর্থাৎ একদিকে যুবসমাজ ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের অর্থনীতি থেকে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে।
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী জুয়া খেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। দণ্ডবিধির ২৯৪(ক) ধারা অনুযায়ী জুয়া খেলার আয়োজন ও অংশগ্রহণ উভয়ই দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু অনলাইন জুয়া যেহেতু ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে পরিচালিত, তাই এখানে আইনের প্রয়োগ অনেক জটিল।
একটি ওয়েবসাইট বন্ধ করলে, একই সার্ভার থেকে নতুন ডোমেইনে আবার ফিরে আসে। অনেক ক্ষেত্রেই সার্ভার থাকে ইউরোপ বা মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশে, যেখানে বাংলাদেশের আইন পৌঁছায় না। ফলে প্রশাসনের পক্ষে এটি বন্ধ করা অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।
তাছাড়া প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে দক্ষ সাইবার ইউনিট এখনো পর্যাপ্ত নয়। অনেক ক্ষেত্রেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধ ধরতে পারলেও, অভিযুক্তকে বিচারের মুখোমুখি করতে প্রমাণ সংগ্রহের জটিলতায় ভোগে। এদিকে প্রতিদিন নতুন নতুন তরুণ যুক্ত হচ্ছে এই নেশায়, যা এখন এক প্রকার ডিজিটাল মহামারিতে রূপ নিচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো—এই জুয়ার শিকার হচ্ছে দেশের তরুণ প্রজন্ম।
কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখন পড়াশোনার পাশাপাশি ‘একটু খেলা’ বা ‘অনলাইন আয়’ করার আশায় বেটিংয়ে যুক্ত হচ্ছে।
তারা ভাবে, একটু খেলেই হয়তো ভাগ্য খুলবে। কিন্তু বাস্তবে তারা ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলে নিজের সংযম ও মানসিক ভারসাম্য।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন জুয়া একটি মানসিক আসক্তি তৈরি করে। যখন কেউ হারতে থাকে, তখন সে বারবার খেলতে চায় হারানো টাকা ফিরে পাওয়ার আশায়। এভাবেই শুরু হয় এক অন্তহীন দুঃস্বপ্ন।
এতে কিশোররা পড়ছে অবসাদে, কেউ কেউ পারিবারিক অর্থ চুরি করছে, কেউ ঋণগ্রস্ত হচ্ছে, আবার কেউ হতাশায় আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে।
সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধনও নষ্ট হচ্ছে। একসময় যেসব ছেলে পড়াশোনায় ভালো করত, এখন তারা রাতে জেগে বেটিং করে, দিনে থাকে ক্লান্ত ও হতাশ। মায়েরা বুঝতে পারেন না সন্তান কী করছে, বাবা ভাবে ছেলে মোবাইলে গেম খেলছে—কিন্তু বাস্তবে সে নিজের ভবিষ্যৎ পুড়িয়ে দিচ্ছে ভার্চুয়াল আগুনে।
অনলাইন জুয়া শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি জাতীয় অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলছে।
অর্থ পাচারের পাশাপাশি এটি কমিয়ে দিচ্ছে কর্মক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা। তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ যদি এই আসক্তিতে পড়ে কর্মজীবন নষ্ট করে ফেলে, তবে ভবিষ্যতের শ্রমবাজারে যোগ্য নাগরিকের ঘাটতি তৈরি হবে।
অর্থনীতির এই ক্ষয়ক্ষতি দৃশ্যমান না হলেও, দীর্ঘমেয়াদে তা মারাত্মক হয়ে উঠবে।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে যেখানে কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ প্রচুর, সেখানে তরুণদের এইভাবে ভ্রান্ত পথে ধাবিত হওয়া জাতীয় উন্নয়নের জন্য এক অশনিসঙ্কেত।
প্রথমেই প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কঠোর মনিটরিং।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
বিটিআরসি যেন দ্রুত এসব বেটিং ওয়েবসাইট ব্লক করে, VPN ব্যবহারের ওপরও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ আনে।
পাশাপাশি প্রয়োজন সাইবার সচেতনতা কর্মসূচি।
স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের অনলাইন জুয়ার ক্ষতি সম্পর্কে শিক্ষা দিতে হবে। অভিভাবকদেরও জানতে হবে সন্তান ইন্টারনেটে কী করছে, কোথায় সময় দিচ্ছে।
মিডিয়া ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।
জুয়া-বিরোধী প্রচারণা, তথ্যচিত্র, টকশো ও প্রতিবেদন তৈরি করে জনমত গড়ে তুলতে হবে।
একই সঙ্গে বিকাশ, নগদ বা রকেটের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস কোম্পানিগুলোকেও সন্দেহজনক লেনদেন পর্যবেক্ষণ করে অনলাইন জুয়ায় অর্থপ্রবাহ বন্ধ করতে হবে।
প্রযুক্তি মানুষের কল্যাণের জন্য, ধ্বংসের জন্য নয়। কিন্তু যখন প্রযুক্তি অজান্তেই ধ্বংসের অস্ত্রে পরিণত হয়, তখন সমাজকে সজাগ হতে হয়।
অনলাইন জুয়া আজ শুধুমাত্র একটি খেলা নয়; এটি এক অদৃশ্য সামাজিক ব্যাধি, যা ধীরে ধীরে গ্রাস করছে দেশের তরুণ প্রজন্মকে।
আমরা যদি এখনই না থামি, তাহলে আগামী দশকে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ—অর্থনৈতিক ক্ষতি, সামাজিক ভাঙন ও মানসিক অবক্ষয়।
তরুণদের রক্ষা করতে হবে, পরিবারকে সচেতন হতে হবে, আর রাষ্ট্রকে নিতে হবে কঠোর ব্যবস্থা।
যে দেশ তরুণদের হাতে ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে চায়, সেই দেশ কোনোভাবেই তাদের জুয়ার আসরে হারিয়ে যেতে দিতে পারে না।
আজই সময়—ডিজিটাল সর্বনাশের বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার।
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশে ডিজিটাল বিপ্লবের ফলে মানুষের জীবনযাত্রা বদলে গেছে ব্যাপকভাবে। আজ গ্রামের অজপাড়াগাঁয়ের মানুষও স্মার্টফোন হাতে ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। কিন্তু এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মাঝেই নিঃশব্দে জন্ম নিচ্ছে এক ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি—অনলাইন জুয়া।
একসময় জুয়া ছিল শহরের অন্ধকার গলিতে বা নির্দিষ্ট জায়গায় সীমাবদ্ধ। এখন তা ছড়িয়ে পড়েছে ঘরে ঘরে, মোবাইলের স্ক্রিনে, মানুষের পকেটের ভেতরেই।
প্রথমে এসব অ্যাপ নিজেদের প্রচারণায় ব্যবহার করে ‘গেম খেলা,স্পোর্টস বেটিং, ‘ফান চ্যালেঞ্জ,অনলাইন আয়’ ইত্যাদি আকর্ষণীয় শব্দ। তরুণরা ভাবে, “একটু খেলে দেখি, ক্ষতি কী! কিন্তু এই নিরীহ কৌতূহলই হয়ে ওঠে সর্বনাশের সূচনা। প্রথমদিকে তারা কিছু টাকা জিতে সাময়িক আনন্দ পায়, কিন্তু পরে হেরে যায় সবকিছু—অর্থ, আত্মসম্মান, পারিবারিক বন্ধন, এমনকি মানসিক শান্তিও।
দেশে এখন বিভিন্ন বিদেশি ওয়েবসাইট ও অ্যাপের মাধ্যমে চলছে জুয়ার রমরমা ব্যবসা। এসব অ্যাপ যেমন Bet365, 1xBet, Parimatch, কিংবা “Mostbet”—সবই বিদেশে নিবন্ধিত। কিন্তু বাংলাদেশি ব্যবহারকারীরা VPN, বিকাশ, নগদ কিংবা আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করে সেখানে অংশ নিচ্ছে।
প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতবদল হচ্ছে এই ভার্চুয়াল জুয়ার বাজারে।
প্রশ্ন হলো—এই টাকা কোথায় যাচ্ছে? উত্তর হলো: দেশের বাইরে। অর্থাৎ একদিকে যুবসমাজ ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের অর্থনীতি থেকে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে।
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী জুয়া খেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। দণ্ডবিধির ২৯৪(ক) ধারা অনুযায়ী জুয়া খেলার আয়োজন ও অংশগ্রহণ উভয়ই দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু অনলাইন জুয়া যেহেতু ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে পরিচালিত, তাই এখানে আইনের প্রয়োগ অনেক জটিল।
একটি ওয়েবসাইট বন্ধ করলে, একই সার্ভার থেকে নতুন ডোমেইনে আবার ফিরে আসে। অনেক ক্ষেত্রেই সার্ভার থাকে ইউরোপ বা মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশে, যেখানে বাংলাদেশের আইন পৌঁছায় না। ফলে প্রশাসনের পক্ষে এটি বন্ধ করা অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।
তাছাড়া প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে দক্ষ সাইবার ইউনিট এখনো পর্যাপ্ত নয়। অনেক ক্ষেত্রেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধ ধরতে পারলেও, অভিযুক্তকে বিচারের মুখোমুখি করতে প্রমাণ সংগ্রহের জটিলতায় ভোগে। এদিকে প্রতিদিন নতুন নতুন তরুণ যুক্ত হচ্ছে এই নেশায়, যা এখন এক প্রকার ডিজিটাল মহামারিতে রূপ নিচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো—এই জুয়ার শিকার হচ্ছে দেশের তরুণ প্রজন্ম।
কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখন পড়াশোনার পাশাপাশি ‘একটু খেলা’ বা ‘অনলাইন আয়’ করার আশায় বেটিংয়ে যুক্ত হচ্ছে।
তারা ভাবে, একটু খেলেই হয়তো ভাগ্য খুলবে। কিন্তু বাস্তবে তারা ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলে নিজের সংযম ও মানসিক ভারসাম্য।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন জুয়া একটি মানসিক আসক্তি তৈরি করে। যখন কেউ হারতে থাকে, তখন সে বারবার খেলতে চায় হারানো টাকা ফিরে পাওয়ার আশায়। এভাবেই শুরু হয় এক অন্তহীন দুঃস্বপ্ন।
এতে কিশোররা পড়ছে অবসাদে, কেউ কেউ পারিবারিক অর্থ চুরি করছে, কেউ ঋণগ্রস্ত হচ্ছে, আবার কেউ হতাশায় আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে।
সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধনও নষ্ট হচ্ছে। একসময় যেসব ছেলে পড়াশোনায় ভালো করত, এখন তারা রাতে জেগে বেটিং করে, দিনে থাকে ক্লান্ত ও হতাশ। মায়েরা বুঝতে পারেন না সন্তান কী করছে, বাবা ভাবে ছেলে মোবাইলে গেম খেলছে—কিন্তু বাস্তবে সে নিজের ভবিষ্যৎ পুড়িয়ে দিচ্ছে ভার্চুয়াল আগুনে।
অনলাইন জুয়া শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি জাতীয় অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলছে।
অর্থ পাচারের পাশাপাশি এটি কমিয়ে দিচ্ছে কর্মক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা। তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ যদি এই আসক্তিতে পড়ে কর্মজীবন নষ্ট করে ফেলে, তবে ভবিষ্যতের শ্রমবাজারে যোগ্য নাগরিকের ঘাটতি তৈরি হবে।
অর্থনীতির এই ক্ষয়ক্ষতি দৃশ্যমান না হলেও, দীর্ঘমেয়াদে তা মারাত্মক হয়ে উঠবে।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে যেখানে কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ প্রচুর, সেখানে তরুণদের এইভাবে ভ্রান্ত পথে ধাবিত হওয়া জাতীয় উন্নয়নের জন্য এক অশনিসঙ্কেত।
প্রথমেই প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কঠোর মনিটরিং।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
বিটিআরসি যেন দ্রুত এসব বেটিং ওয়েবসাইট ব্লক করে, VPN ব্যবহারের ওপরও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ আনে।
পাশাপাশি প্রয়োজন সাইবার সচেতনতা কর্মসূচি।
স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের অনলাইন জুয়ার ক্ষতি সম্পর্কে শিক্ষা দিতে হবে। অভিভাবকদেরও জানতে হবে সন্তান ইন্টারনেটে কী করছে, কোথায় সময় দিচ্ছে।
মিডিয়া ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।
জুয়া-বিরোধী প্রচারণা, তথ্যচিত্র, টকশো ও প্রতিবেদন তৈরি করে জনমত গড়ে তুলতে হবে।
একই সঙ্গে বিকাশ, নগদ বা রকেটের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস কোম্পানিগুলোকেও সন্দেহজনক লেনদেন পর্যবেক্ষণ করে অনলাইন জুয়ায় অর্থপ্রবাহ বন্ধ করতে হবে।
প্রযুক্তি মানুষের কল্যাণের জন্য, ধ্বংসের জন্য নয়। কিন্তু যখন প্রযুক্তি অজান্তেই ধ্বংসের অস্ত্রে পরিণত হয়, তখন সমাজকে সজাগ হতে হয়।
অনলাইন জুয়া আজ শুধুমাত্র একটি খেলা নয়; এটি এক অদৃশ্য সামাজিক ব্যাধি, যা ধীরে ধীরে গ্রাস করছে দেশের তরুণ প্রজন্মকে।
আমরা যদি এখনই না থামি, তাহলে আগামী দশকে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ—অর্থনৈতিক ক্ষতি, সামাজিক ভাঙন ও মানসিক অবক্ষয়।
তরুণদের রক্ষা করতে হবে, পরিবারকে সচেতন হতে হবে, আর রাষ্ট্রকে নিতে হবে কঠোর ব্যবস্থা।
যে দেশ তরুণদের হাতে ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে চায়, সেই দেশ কোনোভাবেই তাদের জুয়ার আসরে হারিয়ে যেতে দিতে পারে না।
আজই সময়—ডিজিটাল সর্বনাশের বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার।
মতামত