প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
চেয়ারম্যান নয়, জনগণের খাদেম হতে চান কায়দে আজম লিটন
আব্দুল্লাহিল শাহীন, তারাগঞ্জ, রংপুর ||
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ৪ নম্বর হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে আলোচনায় এসেছেন কায়দে আজম লিটন। ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে তাঁকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।নির্বাচন সামনে রেখে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে আলোচনা। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার আড্ডা—সবখানেই উঠে আসছে আগামী দিনের জনপ্রতিনিধি কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়ে নানা মতামত। এসব আলোচনায় কায়দে আজম লিটনের নামও উঠে আসছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কায়দে আজম লিটন দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখ, বিভিন্ন সমস্যা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততার কারণে অনেকের কাছে তিনি পরিচিত মুখ। আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তাঁর প্রার্থিতার বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।ইউনিয়নের প্রামাণিকপাড়ার বাসিন্দা বৃদ্ধা রহিমা খাতুন বলেন, ‘এতদিন তো পুরোনো মুখ দেখেছি, এবার নতুন মুখ দেখতে চাই। আমরা কায়দে আজম লিটনকে ভোট দেব।’রহিমা খাতুনের এই বক্তব্যে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ের প্রত্যাশার একটি দিক উঠে এসেছে। তাঁর মতো অনেকেই আগামী নির্বাচনে প্রার্থীদের নতুন চিন্তাভাবনা, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক এবং এলাকার উন্নয়নে তাঁদের পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দিতে চান।হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সাধারণ মানুষের নানা সমস্যা নিয়ে তাঁদের প্রত্যাশা রয়েছে। তাঁরা এমন জনপ্রতিনিধি চান, যিনি শুধু নির্বাচনের সময় নয়, নির্বাচনের পরও সাধারণ মানুষের পাশে থাকবেন। মানুষের কথা শুনবেন এবং ইউনিয়নের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবেন।এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘কায়দে আজম লিটন এলাকার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। বিভিন্ন সময় তাঁকে মানুষের পাশে থাকতে দেখা গেছে। তাঁর প্রার্থিতার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে। তবে আমরা চাই, যিনিই নির্বাচিত হবেন, তিনি যেন মানুষের প্রত্যাশার মর্যাদা দেন।’আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়নে অনেক সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে আন্তরিক ও দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি প্রয়োজন। সাধারণ মানুষ যেন তাঁদের সমস্যার কথা চেয়ারম্যানের কাছে নির্ভয়ে বলতে পারেন এবং প্রয়োজনের সময় তাঁকে পাশে পান—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের বিষয়ে নানা প্রত্যাশা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের অধিকার, নাগরিক সেবা, এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা সুষমভাবে বণ্টনের বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।এদিকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহের বিষয়ে নিজের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ ভাবনা তুলে ধরেছেন কায়দে আজম লিটন। তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে চেয়ারম্যান হিসেবে নয়, আপনাদের খাদেম হয়ে আপনাদের খেদমত করে যাব। আপনাদের পাওনা, আপনাদের অধিকার নিশ্চিত করব—এটা আমার অঙ্গীকার।’তিনি আরও বলেন, মানুষের সেবা করার প্রত্যয় নিয়েই তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে চান। ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ, তাঁদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখাই তাঁর লক্ষ্য।জনপ্রতিনিধিত্বকে দায়িত্ব ও জনসেবার জায়গা থেকে দেখার কথা উল্লেখ করে কায়দে আজম লিটনের এই বক্তব্য নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে।সব মিলিয়ে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে ৪ নম্বর হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং ভোটাররা কাকে তাঁদের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেবেন, তা নির্ধারিত হবে নির্বাচনের মধ্য দিয়েই। এখন নজর থাকবে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রস্তুতি, এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ এবং উন্নয়ন পরিকল্পনার দিকে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জসিম উদ্দিন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত উত্তরের চোখ