প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬
গোপালগঞ্জে বিনা ধান-২৬ চাষে ব্যাপক ফলনের সাফল্য
বাদল শেখ, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি ||
প্রচলিত আমন ধানের তুলনায় বেশি ফলন পাওয়ায় গোপালগঞ্জে বিনা ধান-২৬ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। চলতি আমন মৌসুমে এ জাতের ধান আবাদ করে বিঘাপ্রতি সাড়ে ৩২ মণ ফলন পেয়েছেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম শুকতাইল গ্রামের কৃষক মহব্বত হোসেন। অথচ একই জমিতে প্রচলিত জাতের আমন ধান চাষ করে তিনি সর্বোচ্চ ১৮ মণ পর্যন্ত ফলন পেয়েছিলেন।বেশি ফলন পাওয়ায় বিনা ধান-২৬ চাষে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন কৃষক মহব্বত হোসেন। শুধু তিনি নন, চলতি মৌসুমে গোপালগঞ্জের আরও প্রায় ৪০০ জন কৃষক বিনা ধান-২৬ আবাদ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে জালালাবাদ ইউনিয়নের কৃষক মো. শহীদ সর্দার, মো. ইলিয়াসসহ অনেকেই রয়েছেন। ফলন ও লাভের সম্ভাবনা দেখে আগামী আমন মৌসুমেও এ জাতের ধান চাষের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।এদিকে মাঠপর্যায়ে বিনা ধান-২৬-এর সাফল্য দেখে আশপাশের অনেক কৃষকও নতুন এ জাতের ধান চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।এই সাফল্যকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম শুকতাইল গ্রামের কৃষক মহব্বত হোসেনের জমিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিনা ধান-২৬-এর মাঠ দিবস ও ফসল কর্তন কর্মসূচি। এ সময় পাকা ধান কেটে ফলন পর্যবেক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি কৃষকদের সঙ্গে এ জাতের ধান চাষের অভিজ্ঞতা, ফলন ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।মাঠ দিবসে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, গোপালগঞ্জের উপপরিচালক ড. মামুনুর রহমান, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) গোপালগঞ্জ উপকেন্দ্রের ইনচার্জ ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হারুন অর রশীদ, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাফরোজা আক্তারসহ জালালাবাদ ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক কৃষক।বিনা গোপালগঞ্জ উপকেন্দ্রের ইনচার্জ ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হারুন অর রশীদ জানান, চলতি বছর গোপালগঞ্জের ৪০০ জন কৃষককে বিনা ধান-২৬-এর বীজ দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কৃষকেরা এ জাতের ধান আবাদ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। এ ধানের জীবনকাল প্রায় ১২০ দিন। পাশাপাশি এটি জলাবদ্ধতা ও রোগবালাই সহনশীল। এর গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৬ দশমিক ৫ থেকে ৭ টন। মাঠপর্যায়ে এ সাফল্য নতুন কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করছে। ফলে আগামী আমন মৌসুমে এ জাতের আবাদ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, গোপালগঞ্জের উপপরিচালক ড. মামুনুর রহমান বলেন, মাঠ দিবসে ফসল কর্তন করে কৃষক মহব্বত হোসেনের জমিতে হেক্টরপ্রতি ৬ দশমিক ২ টন ফলন পাওয়া গেছে, যা এ অঞ্চলের আমন চাষিদের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এ জাতের ধানে রোগবালাই তুলনামূলক কম এবং এটি জলাবদ্ধতা সহিষ্ণু। বিনা ধান-২৬-এর আবাদ বৃদ্ধি করা গেলে কৃষকেরা আরও লাভবান হবেন।কৃষক মহব্বত হোসেন বলেন, আগে প্রচলিত জাতের আমন ধান চাষ করে একই জমিতে বিঘাপ্রতি সর্বোচ্চ ১৮ মণ ফলন পেয়েছেন। কিন্তু এবার বিনা ধান-২৬ আবাদ করে সাড়ে ৩২ মণ ধান পেয়েছেন। এতে তাঁর উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং তিনি আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছেন। বেশি ফলন পাওয়ায় আমন ধান চাষের প্রতি তাঁর আগ্রহও বেড়েছে। আগামী মৌসুমেও তিনি এ জাতের ধান আবাদ করতে চান।স্থানীয় কৃষকেরা জানান, একই জমিতে তুলনামূলক বেশি ফলন পাওয়া গেলে উৎপাদন খরচের তুলনায় আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। মহব্বত হোসেনের জমিতে ভালো ফলন দেখে আশপাশের কৃষকেরাও বিনা ধান-২৬ চাষের বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, এ জাতের ধান চাষের মাধ্যমে আমন মৌসুমে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি কৃষকদের আয়ও বৃদ্ধি পাবে।গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাফরোজা আক্তার জানান, মাঠপর্যায়ে প্রদর্শনী ও ফসল কর্তন কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন জাতের ধানের ফলন সম্পর্কে কৃষকদের সরাসরি ধারণা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এতে কৃষকেরা তাঁদের জমি ও স্থানীয় চাষাবাদ পরিবেশ অনুযায়ী উপযোগী জাত বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গোপালগঞ্জে বিনা ধান-২৬-এর এই সাফল্য স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। কৃষকদের আগ্রহ অব্যাহত থাকলে আগামী আমন মৌসুমে এ জাতের আবাদ আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। এর ফলে জেলার ধান উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জসিম উদ্দিন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত উত্তরের চোখ