প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সার বিতরণে অনিয়ম হলে ডিলারদের দায় নিতে হবে: হুইপ
মো: জসিম উদ্দিন ||
দিনাজপুরের খানসামায় সার বিতরণে অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের দায় নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও দিনাজপুর-৪ (চিরিরবন্দর-খানসামা) আসনের সংসদ সদস্য মো. আখতারুজ্জামান মিয়া।সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা কৃষি অফিসের হলরুমে বিসিআইসি ও বিএডিসির সার ডিলার এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া।সভায় উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা অয়ন ফারহান শামস, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার, খানসামা থানার ওসি আব্দুল বাসের সরদার, জেলা বিএনপির অর্থবিষয়ক সম্পাদক রবিউল আলম তুহিন, গোয়ালডিহি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন লিটন, বিএনপি নেতা ও সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য শরিফুল ইসলাম প্রধান এবং উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব রুবেল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, সার ডিলার, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা সভায় অংশ নেন।সভায় কৃষকদের কাছে সার সরবরাহ, সার বিতরণ ব্যবস্থাপনা, কৃষি উপকরণের চাহিদা এবং মাঠপর্যায়ে কৃষি কার্যক্রমে সমন্বয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।হুইপ বলেন, “প্রতিবছর দেশে আবাদি জমির পরিমাণ কমছে। জমির জায়গায় স্কুল-কলেজ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা হচ্ছে। জমির পরিমাণ কমলেও কৃষি উৎপাদন বাড়ছে এবং সারের সরবরাহও বাড়ছে। তাহলে সার নিয়ে সংকট তৈরি হচ্ছে কেন, সেটি খতিয়ে দেখতে হবে।”তিনি বলেন, “বিভিন্ন সরকারের সময় সারের বরাদ্দ কমেনি, বরং অনেক সময় বেড়েছে। গতবারের বরাদ্দের সঙ্গেও এবার বড় কোনো পার্থক্য নেই। তাই সার নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ নেই। কেউ যদি অনিয়ম করে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করেন, সেটিও গ্রহণযোগ্য নয়।”সার ডিলারদের উদ্দেশে হুইপ বলেন, “ডিলাররা সরকারের কাছ থেকে লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করেন। সরকার যে নিয়ম ও নির্দেশনা দেবে, সে অনুযায়ী সার বিতরণ করা তাদের দায়িত্ব। দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে সরকারকে বিব্রত করা বা সরকারের বিপক্ষে পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা কোনো ব্যবসায়ীর কাজ হতে পারে না। দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে নিয়ম মেনে ব্যবসা করতে হবে।”তিনি আরও বলেন, “অবৈধভাবে সার মজুত, নির্ধারিত সময়ে সার বিক্রি না করা কিংবা সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করলে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের দায় নিতে হবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে অনিয়মের কারণে অনেক ব্যবসায়ী জরিমানা দিয়েছেন এবং কোথাও কোথাও সার জব্দ হয়েছে। খানসামায় যেন এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”কৃষক পর্যায়ে সার ব্যবহারের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করে হুইপ বলেন, “অনেক সময় দেখা যায়, যে কৃষকের জমি নেই তাকেও সার দেওয়া হচ্ছে। আবার যার এক বস্তা প্রয়োজন, তাকে দুই বস্তা দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার বিতরণ করলে কৃত্রিম চাহিদা ও সংকট তৈরি হতে পারে।”তিনি বলেন, “কিছু কৃষক ডিলারের কাছ থেকে অতিরিক্ত সার নিয়ে বেশি দামে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন। পরে খুচরা ব্যবসায়ীরা আরও বেশি দামে তা বিক্রি করছেন। এভাবে বাজারে সারের দাম নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নজরদারি বাড়াতে হবে।”সারের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় কৃষকভিত্তিক তথ্য সংরক্ষণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে হুইপ বলেন, “কৃষকের জমির পরিমাণ, কোন ফসল আবাদ করবেন এবং সেই ফসলের জন্য কী পরিমাণ সার প্রয়োজন—এসব তথ্য নির্ধারণ করে সার বিতরণ করতে হবে। ঘোষিত কৃষক কার্ড দেওয়ার আগেই উপজেলায় কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ করে তালিকা তৈরি করা হবে।”তিনি আরও বলেন, “নির্ধারিত কৃষককে নির্দিষ্ট ডিলারের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হবে। ওই ডিলারের কাছ থেকেই কৃষক প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করবেন এবং সার নেওয়ার সময় তার তথ্য বা স্বাক্ষর সংরক্ষণ করা হবে। এতে একজন কৃষক একাধিক জায়গা থেকে অতিরিক্ত সার নেওয়ার সুযোগ কমবে এবং প্রকৃত কৃষক তার প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাবেন।”রবি মৌসুমের মধ্যেই এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে জানিয়ে হুইপ বলেন, সার বিতরণে ডিলার, কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকদের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। সবাই দায়িত্বশীলভাবে কাজ করলে সার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: জসিম উদ্দিন
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত উত্তরের চোখ